‌বিভাস ভট্টাচার্য: বক্সার জঙ্গলে বাড়ানো হচ্ছে রয়্যাল বেঙ্গলের সংখ্যা। অন্য রাজ্য থেকে সেখানে নিয়ে আসা হচ্ছে ৬টি বাঘ। তাদের খাবারের জন্য জলদাপাড়া থেকে সম্বর হরিণ পাঠাচ্ছে রাজ্য বন দপ্তর। ঠিক হয়েছে, ৫০টি হরিণ ছাড়া হবে ওই জঙ্গলটিতে। ইতিমধ্যেই ১০টি সম্বর ছাড়া হয়ে গেছে। বাকিগুলিও খুব তাড়াতাড়ি ছাড়া হবে বলে জানা গেছে। 
এ বিষয়ে রাজ্যের মুখ্য প্রধান বনপাল (‌বন্যপ্রাণ)‌ রবিকান্ত সিন্‌হা বলেন, ‘‌ওই জঙ্গলে বাঘের প্রয়োজনীয় খাবার হিসেবে হরিণ বা অন্যান্য অনেক জন্তু আছে। যেহেতু সেখানে বাঘের সংখ্যা বাড়ানো হবে, সে–‌কারণে আরও সম্বর ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাতে খাবারের কোনও সমস্যা না হয়। গত বারই ওই জঙ্গলে আমরা স্পটেড ডিয়ার ছেড়েছি।’‌
বন দপ্তরের একটি সূত্রে জানা গেছে, এই বাঘগুলির মধ্যে দুটি বাঘ ও চারটি বাঘিনি। আলিপুরদুয়ারে এই জঙ্গলটির আয়তন ৮০০ বর্গ কিলোমিটারের কাছাকাছি। জঙ্গলটিতে আপাতত রয়্যাল বেঙ্গল ছাড়াও রয়েছে হাতি, লেপার্ড–সহ অন্যান্য জন্তু। আছে নানা প্রজাতির সাপ। বাঘেদের জন্য সংরক্ষিত এই জঙ্গলটিতে ইতিমধ্যেই বন দপ্তরের লুকোনো ক্যামেরায় পাওয়া গেছে বাঘের ছবি। বন দপ্তরের দাবি, ওই জঙ্গলে একটি বাঘের ছবি পাওয়া মানে এটা ঠিক নয় যে সেখানে একটিমাত্রই বাঘ আছে। আদতে বাঘের সংখ্যাটা অনেক বেশি। প্রজনন ঘটিয়ে সংখ্যাটা যাতে বাড়ানো যায়, সেজন্যই সেখানে বাঘ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বন দপ্তরের এক কর্তা জানিয়েছেন, এই জঙ্গলটির চারপাশে অনেক বসতি আছে। বাঘের সংখ্যা বাড়লে, যদি তারা ঠিকঠাক খাবার না পায়, তবে তারা জঙ্গল থেকে বেরিয়ে পড়তে পারে। যার ফলে বিপন্ন হতে পারে ওই এলাকায় বসবাসকারী বাসিন্দাদের জীবন। এই সমস্যা যাতে তৈরি না হয়, তাই আগেই হরিণ ছাড়ার সিদ্ধান্ত। 
তবে ওই কর্তা মনে করেন, হরিণের সংখ্যা বাড়ার ফলে শুধু রয়্যাল বেঙ্গলেরই সুবিধা হবে না। লেপার্ড–‌জাতীয় যে–‌জন্তুরা আছে, তারাও খাবার পাবে। কারণ অনেক সময় লেপার্ডরা খাবারের জন্য জঙ্গলের বাইরে বেরিয়ে আসছে। যাতে সমস্যা হচ্ছে জঙ্গল এলাকার বাসিন্দাদের। মাঝে মাঝেই মানুষ আর জন্তুদের সঙ্ঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।

ছবি: সুন্দরবন ন্যাশনাল পার্ক

জনপ্রিয়

Back To Top