যজ্ঞেশ্বর জানা, দিঘা, ১১ নভেম্বর- সমুদ্র অশান্ত থাকায় মঙ্গলবার পর্যন্ত ফের সমুদ্রস্নানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের নির্দেশ হাতে পেয়েই সোমবার সকালে পর্যটকদের সতর্ক করতে মাইক হাতে নেমে পড়ে পুলিশ। ঘূর্ণিঝড়–‌পরবর্তী সময়ে সমুদ্র অশান্ত থাকার কথা জানিয়ে এদিন সকাল থেকেই বন্ধ করে দেওয়া হয় সমুদ্রস্নান। সৈকত সরণির রাস্তা পর্যন্ত যাতে কেউ যেতে না পারেন সে জন্য সমস্ত প্রবেশ মুখই দড়ি দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়। দিঘার পাশাপাশি শঙ্করপুর, মন্দারমণি, তাজপুর, জুনপুট, বগুড়ানজালপাই সৈকতগুলোতেও সমুদ্রস্নানে মানা করা হয়েছে। সমুদ্র থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার কথা বলা হয়েছে পর্যটকদের। 
বুলবুল ঝড়ের কারণে রবিবার পর্যন্ত সমুদ্রস্নানে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল প্রশাসন, পাশাপাশি দিঘা ছাড়তে বলা হয় পর্যটকদের। পর্যটকরাও ফিরতে শুরু করেছিলেন। রবিবার দিঘার আকাশ উজ্জ্বল ছিল। যে কারণে আর কোনও নিষেধাজ্ঞা ছিল না সমুদ্রস্নানের ওপর। রবিবার সকাল থেকে স্বাভাবিকভাবেই পর্যটকরা সমুদ্রে নামতে থাকেন। ঘটনাক্রমে এদিনই সমুদ্রে নেমে তলিয়ে যান উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের যুবক ইন্দ্রনীল মজুমদার। মৃতদেহ উদ্ধার হয়। আর তারপরই রবিবার রাতে সমুদ্রস্নানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন জেলাশাসক পার্থ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘‌এখনও অশান্ত রয়েছে সমুদ্র। পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’‌ সমুদ্রস্নানে নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি বেপরোয়া পর্যটকদের ঠেকাতে মঙ্গলবার পর্যন্ত দিঘা এবং সংলগ্ন সমুদ্র সৈকতগুলোতে ব্যাপক নজরদারি বাড়িয়েছে প্রশাসন। পুলিশ, নুলিয়া ছাড়াও সিভিক ভলান্টিয়ার এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীরা নজরদারি চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন রামনগর ১ ব্লকের বিডিও আশিস রায়। 
এদিকে মত্ত পর্যটকরা যাতে সমুদ্রে না নামতে পারেন সে জন্য ব্রিদ অ্যানালাইজার দিয়ে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিঘা পুলিশ। সোমবার এ বিষয়ে প্রচারও চালায় তারা। ব্রিদ অ্যানালাইজার দিয়ে প্রচারমূলক পরীক্ষাও চালায় পুলিশ। দিঘা থানার ওসি বাসুকী ব্যানার্জি বলেন, ‘‌মদ্যপ অবস্থায় কেউ যাতে সমুদ্রে না নামেন তার জন্য এই অভিযান শুরু করা হচ্ছে। মদ্যপ অবস্থায় কেউ ধরা পড়লে তার বিরুদ্ধে শাস্তির খাঁড়া নেমে আসবে।’‌ সমুদ্রস্নানে দুর্ঘটনা রুখতেই এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি। 

সমুদ্রস্নানে নিষেধাজ্ঞা প্রচার পুলিশের।  ছবি:‌ প্রতিবেদক 
 

জনপ্রিয়

Back To Top