আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ বনগাঁ পুরসভা নিজেদের দখলেই রাখল তৃণমূল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা নাগাদ বারাসত জেলাশাসকের অফিসে হওয়া আস্থাভোটে ১৪–০ ফলে জিতেছে তৃণমূল।  জেলাশাসক চৈতালি চক্রবর্তী ভোটাভুটির ফল ঘোষণা করেন। ভোটদানের আগেই সম্পূর্ণ এলাকা মুড়ে ফেলা হয় নিরাপত্তা বেষ্টনীতে। সংবাদমাধ্যমেরও প্রবেশাধিকার ছিল না। তৃণমূলের ১৩ জন কাউন্সিলর ভোট দেন। একজন কংগ্রেস কাউন্সিলরও তৃণমূলের পক্ষেই ভোট দেন। বাম কাউন্সিলর অনুপস্থিত ছিলেন। বিজেপির সাতজন কাউন্সিলরের কেউই ভোটদান করতে আসেননি। দুপুর ১২.‌৩০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও বিজেপি কাউন্সিলররা কেউ না আসায় ফল ঘোষণা করে দেন জেলাশাসক।
বনগাঁ পুরসভার আস্থাভোট নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বললেন, ‘‌বনগাঁ নিয়ে আদালতকে ভুল তথ্য দিয়েছিল বিজেপি। বিজেপি আদালত অবমাননা করেছে। বিজেপির অত্যাচারে কাউন্সিলরা দলবদল করে ফের তৃণমূলে ফিরেছেন।’‌‌ বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্য বললেন, ‘‌তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে যে উন্নয়ন করেছি বিগত দিনে, আগামী দিনেও তাই করব। আমাদের বিরুদ্ধে যে আস্থাভোট ডেকেছিল তা খারিজ হয়েছে।’‌
বিজেপির অভিযোগ, হাইকোর্ট পুলিশকে আদেশ দিয়েছিল তাঁদের কড়া নিরাপত্তায় জেলাশাসকের দপ্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু পুলিস সেই আদেশ লঙ্ঘন করায় নিরাপত্তার অভাববোধ করেই তাঁরা ভোটদানে অংশ নেননি। পুলিসের পাল্টা জবাব, বিজেপি কাউন্সিলররা কেউ তাদের ফোন ধরেননি।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুলাই আস্থাভোটের দিন তুমুল গন্ডগোল হয়েছিল বনগাঁ পুরসভায়। চারজন তৃণমূল কাউন্সিলর বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় বিজেপি পুরসভায় অনাস্থা আনে। জল গড়ায় হাইকোর্টে। এরপর ওই চারজন কাউন্সিলর ফের তৃণমূলে ফিরে আসেন। তারপর জেলাশাসকের উপস্থিতিতে ভোট করানোর নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। অন্যদিকে, আস্থাভোটে অনিয়মের অভিযোগে আস্থাভোটকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছেন বিজেপির কাউন্সিলররা। মামলা দায়েরের অনুমতিও দিয়েছে হাইকোর্ট।    

জনপ্রিয়

Back To Top