সুরজিৎ ঘোষ হাজরা: গতবছরের ঘটনার পুনরাবৃত্তি। আবারও বিকল হাসপাতালের মর্গের কুলার। দুর্গন্ধে ভরেছে গোটা হাসপাতাল চত্বর। খুব শিগগির সমস্যা মেটাতে উদ্যোগী জেলা প্রশাসন। ঘটনাটি বোলপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের।
হাসপাতাল সুত্রে জানা গিয়েছে, গত চারদিন ধরে বোলপুর মহকুমা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে মর্গের মরচুয়ারি কুলার বিকল হয়ে যাওয়ায় পচন ধরতে শুরু করেছে দেহগুলিতে। ফলে দুর্গন্ধে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় হাসপাতালের রোগী ও চিকিৎসকদের। 
বৃহস্পতিবার এই দুর্গন্ধের কারণে কাজ করতে গিয়ে প্রবল অসুবিধার সম্মুখীন হন ডাক্তার ও নার্সরা। দ্রুত ওই কুলার ঠিক করার জন্য জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ওই পচতে থাকা মৃতদেহগুলিকে সৎকার করার ব্যবস্থা জন্য জানানো হয়েছে বোলপুর প্রশাসনিক মহলেও। ওই মর্গের পাশেই রয়েছে হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ শিশু ও প্রসূতি বিভাগ। দুর্গন্ধের কারণে এই দুটি বিভাগের রোগী ও চিকিৎসকরা পড়েছেন প্রবল অস্বস্তিতে। 

বোলপুর মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ দীপেন্দু দত্ত বলেন, ‘গত বছরও, এই করোনা পরিস্থিতিতে একবার মর্গের রেফ্রিজারেটর খারাপ হয়েছিল। সেই সময় আমরা তেরোটি মৃতদেহ ডিসপোজ় করেছিলাম। এবারও একই ঘটনা। দুর্গন্ধ এতো ছড়িয়েছে যে শিশু বিভাগ ও প্রসূতি বিভাগে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসক, নার্স, রোগী, তাদের পরিজন সকলেই সাফার করছে। আগামীকালও এই রকম পরিস্থিতি থাকলে ভর্তি নেওয়া বন্ধ করে দিতে হবে।’
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত নভেম্বর মাস থেকে বোলপুর ও শান্তিনিকেতন থানার মোট পাঁচটি অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহ রাখা আছে। বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে ওই মর্গে। এর মধ্যে বোলপুর থানার দুটি, শান্তিনিকেতন থানার তিনটি। আট দিন আগেও একবার খারাপ হয় মর্গের ওই মরচুয়ারি কুলার। মৃতদেহের পচন রুখতে তড়িঘড়ি জানানো হয় জেলার স্বাস্থ্যদপ্তরকে। চারদিন আগে হাসপাতালে দেখাশোনার দায়িত্ব প্রাপ্ত সংস্থা দুই বিশেষজ্ঞকে নিয়ে এসে ঠিক করালেও আবার চারদিন আগে থেকে মারচুয়ারি কুলার বিকল হয়ে যাওয়ায় তীব্র দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয় হাসপাতাল চত্বরে।
বীরভূমের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক চিকিৎসক হিমাদ্রি আঁড়ি বলেন, ‘খবর পেয়েছি, হাসপাতালের দেখাশোনার দায়িত্ব প্রাপ্ত সংস্থাকে বলা হয়েছে দ্রুত ওই মারচুয়ারি কুলার ঠিক করার জন্য। বিষয়টি বীরভূম জেলা শাসক বিধান রায় ও জেলা পুলিশ সুপার নগেন্দ্র ত্রিপাঠিকেও জানানো হয়েছে।’
বোলপুরের মহকুমা শাসক মানস হালদার বলেন, ‘নির্বাচন ও বর্তমানে করোনা আবহে ব্যস্ত থাকার কারণে বিষয়টি নজর দেওয়া হয়নি। তবে বোলপুর ও শান্তিনিকেতন থানার আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে দ্রুত ওই অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহগুলিকে সৎকার করার।’

জনপ্রিয়

Back To Top