শান্তনু দাস, বীরভূম:‌ বোলপুরের একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ের বেশ কিছু ছাত্র–ছাত্রীর পোশাক খুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠল স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে সোমবার ভুল পোষাক পরে আসার জন্য পড়ুয়াদের পোশাক খুলে নেওয়া হয়। যার ফলে গোটা দিন অনেক পড়ুয়াকেই বিনা পোশাক পরে ক্লাস করতে হয়। বিশেষ করে ছাত্রীদের লেগিংস খুলে নেওয়া হয়। অনেকে অন্তর্বাস না পরে আসায় নগ্ন অবস্থাতেই ক্লাস করতে থাকে বলে অভিযোগ অভিভাবকদের। গতকালই পড়ুয়াদের অভিভাবকরা শান্তিনিকেতন থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে ফের স্কুলে এসে অভিভাবকরা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। তাদের চাপে পরে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের ভুল স্বীকার করে নিয়ে ক্ষমা চেয়ে নেন। তবে তারপরও অভিভাবকরা দীর্ঘক্ষন স্কুলের বাইরে বিক্ষোভ দেখান। অবিভাবকদের অভিযোগ, ‌সোমবার প্রথম শ্রেণি থেকে থেকে তৃতীয় শ্রেণির বেশ কিছু ছাত্রী ঠান্ডার জন্য লেগিংস প্যান্ট পড়ে স্কুলে যায়। যা বিদ্যালয়ের পোশাক বিধি বহির্ভূত। ফলে শিক্ষিকা ক্লাসে এসেই জানতে চান, ওই পোশাকে স্কুলে কেন এসেছে তারা?‌ প্রশ্নের কোনও সদুত্তর ছাত্রীরা দিতে না পারায় শ্রেণি শিক্ষিকা প্রথমে বিষয়টি বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষকে জানান। অভিযোগ, অধ্যক্ষের নির্দেশে যেসব ছাত্রী লেগিংস পরে স্কুলে গিয়েছিল তাদের প্রত্যেকের প্যান্ট খুলে রাখতে বাধ্য করেন শ্রেণি শিক্ষিকা। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন অবিভাবকেরা। তাঁরা বলেন, ‘‌লেগিংস পরা যাবে কি না সেবিষয়ে স্কুলের তরফে কোনও নির্দেশিকা জারি করা হয়নি।’‌ 
ঘটনার কথা জানতে পেরেই অভিভাবকরা শান্তিনিকেতন থানায় অভিযোগ জানাতে যান। এই খবর পেয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও থানায় পৌঁছে যায়। স্কুলের এক শিক্ষক বলেছেন, ‘‌অভিভাবকরা একটা অভিযোগ করেছেন। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখছে। বিদ্যালয়ের একটি পোশাক বিধি আছে। কিছু ছাত্রী তা না মেনেই অন্য পোশাকে স্কুলে এসেছিল। তাই তাদের বলা হয়েছিল পোশাক পরিবর্তন করতে।’‌ তাঁর দাবি, পোশাক বিধি সম্পর্কে স্কুলের তরফে মৌখিকভাবে নোটিশও দেওয়া হয়েছিল। কিছু মানুষ বিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট করতে অপপ্রচার করছে। যদিও স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে পরবর্তীতে ক্ষমা চাওয়া হয়। ‌‌

ছবি—প্রতিবেদক 

জনপ্রিয়

Back To Top