আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ পশ্চিমবঙ্গেও হানা দিল ‘‌ব্লু হোয়েল’‌। শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের আনন্দপুরে আত্মহত্যা করেছে দশম শ্রেণীর এক ছাত্র। অঙ্কন দে নামে ১৪ বছরের ওই কিশোর নাইলনের দড়ি দিয়ে মাথায় প্লাস্টিক প্যাকেট বেঁধে আত্মহত্যা করেছে। তার বাবা গোপীনাথ দে পুলিসকে জানিয়েছেন, শনিবার দুপুরে স্কুল থেকে ফিরে কম্পিউটারের সামনে বসেছিল অঙ্কন। তার মা খেতে ডাকলে সে বলেছিল, স্নান সেরে তবেই খাবে। এরপর বাথরুমে চলে যায় অঙ্কন। প্রায় এক ঘণ্টা পরও সে না বেরলে বিকেল চারটে নাগাদ বাথরুমের দরজা ভেঙে তার নিশ্চল দেহ উদ্ধার করেন দে দম্পতি। হাসপাতালে নিয়ে গেলে অঙ্কনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। প্রাথমিক তদন্তে পুলিস জানতে পেরেছে অনলাইন গেম ‘‌ব্লু হোয়েল’ খেলত অঙ্কন। রীতিমতো আসক্ত ছিল সে এই খেলায়। শেষবার তাকে এই খেলাই খেলতে দেখা গিয়েছিল। যদিও পূর্ণ তদন্তের পরই সব কিছু জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিস।  
এই নিয়ে দেশে ‘‌ব্লু হোয়েল’ গেমের বলি হল দু’‌জন।

পয়লা আগস্ট মুম্বইয়ের ১৪ বছরের কিশোর মনপ্রীত সহন্স নিজেদের আবাসনের ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করে। গত বৃহস্পতিবার ইনদওরের চামেলিদেবী স্কুলের চারতলার বারান্দা থেকে লাফ দেওয়ার মুহূর্তে অষ্টম শ্রেণীর এক ছাত্রকে ধরে ফেলে তার বন্ধুবান্ধব এবং শিক্ষক–শিক্ষিকারা। 
এছাড়া মহারাষ্ট্রের জলগাঁওয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র কল্পেশ পাটিলের মৃত্যুও ‘‌ব্লু হোয়েল’ গেমেরই শেষ টাস্ক বলে সন্দেহ করছেন তদন্তকারী পুলিস অফিসাররা। গত ৯ তারিখ, জলগাঁওয়ের জামনের তালুকের শাওনখেড়ার বাসিন্দা, ১৫ বছরের কল্পেশ গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে। জামনের থানার পুলিস অফিসার নাজির শেখ জানিয়েছেন, ঘটনাটি থানায় জানায়নি তার পরিবার এবং দ্রুত কল্পেশের শেষকৃত্য করেই এলাকা ছেড়ে চলে যায় তারা। কিন্তু কল্পেশের শেষকৃত্যের পরদিন তার তুতো ভাই তার স্কুলের ব্যাগ থেকে সেলফোন খুঁজে পেয়ে জানতে পারে ‘‌ব্লু হোয়েল’ গেম খেলত কল্পেশ। পরে গ্রামবাসীদের কাছে তার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরই তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। 

অঙ্কন দে–র বাড়িতে শোকস্তব্ধ তার পরিবার। ছবি:‌ এএনআই    

জনপ্রিয়

Back To Top