অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায়, সাঁইথিয়া: দলের রাজ্য সভাপতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের নেতা–নেত্রীদের উসকানির ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন বীরভূম জেলা বিজেপি সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল। শনিবার সাঁইথিয়ায় দলের একটি পথসভায় প্রকাশ্যে স্থানীয় কয়েকজন তৃণমূল নেতাকে কার্যত শুট–আউটের নিদান দিলেন বীরভূম জেলা বিজেপি–র সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল। পথসভায় তিনি দলীয় কর্মীদের প্রকাশ্যেই বলেন, ‘‌প্রথমে ঘুমপাড়ানি গুলি, তাতে কাজ না হলে একেবারে চিরতরে ঘুম পাড়িয়ে দেবেন।’‌ তাঁর এই মন্তব্যের জেরে সমালোচনার ঝড়ও উঠেছে। 
সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ)–এর সমর্থনে এদিন সাঁইথিয়ায় বিজেপি একটি মিছিল বের করে। মিছিল শেষে অভেদানন্দ কলেজের কাছে একটি পথসভায় ভাষণ দেন জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল। বলেন, ‘‌কোনও বুনো হাতি যখন খেপে গিয়ে তাণ্ডব করে, ঘরবাড়ি ভাঙে, মানুষকে খুন করে, তখন মানুষ বনবিভাগে খবর দেন। বনবিভাগের কর্মীরা এসে প্রথমে ঘুমপাড়ানি গুলি করেন, যাতে হাতিটা ঘুমিয়ে পড়ে। আর যদি ঘুম না আসে তো হাতিটাকে তঁারা গুলি করে মেরে ফেলেন। সাঁইথিয়ায় তৃণমূলের এরকম ৩–৪ জন নেতা আছেন, আমি নাম করে করে বলে যাব, তঁারা যদি গুন্ডামি করেন, ঘরবাড়ি ভাঙেন, আমাদের কার্যকর্তাদের গায়ে হাত দেন, তাহলে আমি আমার কর্মী ভাইদের বলব, ঘুমপাড়ানি ওষুধটা প্রথমে দেবেন। আর সেই ওষুধে যদি কাজ না হয় তাহলে চিরতরে ঘুম পাড়িয়ে দেবেন।’‌ এদিন ক্ষোভ ফেটে পড়েন স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা। তাঁদের দাবি, পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করুক। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব কর্মীদের সংযত থাকতে বলেছেন। সাঁইথিয়ার তৃণমূল বিধায়ক নীলাবতী সাহার প্রতিক্রিয়া, ‘‌ধারাবাহিকভাবে এইসব উসকানি দিয়ে এরা মানুষের কাছ থেকে আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। মানুষ এদের ঘৃণাভরে প্রত্যখ্যান করবে।’‌ 

জনপ্রিয়

Back To Top