তুফান মণ্ডল, খানাকুল:  যত দিন যাচ্ছে বিজেপি–র গোষ্ঠীদ্বন্দ্বও ততই চরম আকার নিচ্ছে। এবার বিজেপি–র হাতেই মার খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হল বিজেপি–কে। শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে খানাকুলের কিশোরপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের মহিষগোটে।
আক্রান্তরা হলেন গোপাল মাইতি ও তঁার ছেলে অতনু মাইতি। গোপাল মাইতি একসময় ওই এলাকার তৃণমূলের দাপুটে নেতা ছিলেন। তিনি বর্তমানে কিশোরপুর ‌২ নং পঞ্চায়েতের তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন। তার আগে পাঁচ বছর তিনি তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়ে খানাকুল ‌১ নং পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন। তবে কিছুদিন আগে তিনি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন। গোপালবাবুর অভিযোগ, এরপর থেকেই তঁাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। শুক্রবার রাতে তিনি ছেলের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন। তখন একদল দুষ্কৃতী মোটর বাইকে করে তঁাদের পথ আটকায়। তাঁকে ও ছেলেকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। ছেলের মাথা ফেটে যায়। তঁার মাথায় ছটি সেলাই পড়েছে। চিৎকার শুনে এলাকার মানুষ বেরিয়ে এলে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয় মানুষই তঁাদের উদ্ধার করে রাতে আরামবাগ হাসপাতালে ভর্তি করেন। 
গোপালবাবুর আরও অভিযোগ, সিপিএম থেকে কিছু দুষ্কৃতী বিজেপি–তে ঢুকেছে। তারাই এদিন রাতে তঁাদের মারধর করেছে। তবে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‌ওদেরকে ইন্ধন যুগিয়েছে পঞ্চায়েতের তৃণমূল উপপ্রধান দীপেন মাইতি। কারণ গোপনে ওদের সঙ্গে উপপ্রধানের ভালই যোগাযোগ রয়েছে।’‌ যদিও তৃণমূলের উপপ্রধান তঁার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘‌তৃণমূলে থাকাকালীন গোপাল মাইতি অনেক দুর্নীতি করেছেন। সেই দুর্নীতির হাত থেকে বাঁচার জন্যই বিজেপি–তে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু বিজেপি–র একটা অংশ তঁার এই যোগদান মেনে নিতে পারেননি। তাই তারাই তঁাকে মারধর করেছে। এর সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই। নিজেদের লজ্জা ঢাকতে ওরা এখন আমার নামে অপবাদ দিচ্ছ। আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি।’‌ ছবি: প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top