আজকালের প্রতিবেদন- ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে যে সব আসনে তৃণমূলের বিধায়ক আছেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই শুক্রবার নিজের কেন্দ্রে বসে সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপির সমালোচনা করলেন।
একডালিয়া এভারগ্রিন ক্লাবে সুব্রত মুখার্জি, কলকাতা বন্দর কেন্দ্র খিদিরপুরে ফিরহাদ হাকিম, রাসবিহারীতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, দমদমে ব্রাত্য বসু, মানিকতলায় সাধন পান্ডে, শ্যামপুকুরে শশী পাঁজা প্রমুখ সাংবাদিক বৈঠক করেন। কেউ কেউ বলেন, ‘‌সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে বিজেপি নেতিবাচক রাজনীতি শুরু করেছে। আমাদেরও পাল্টা জবাব দিতে হবে।’
সুব্রত মুখার্জি বলেন, ‘‌করোনা ও আমফানের মোকাবিলায় ভাল কাজ করছে তৃণমূল এবং প্রশাসন। তবে আমাদের পরিকাঠামো আরও ভাল করতে হবে। করোনা নিয়ে ইতিমধ্যে ১০ লক্ষ মানুষের পরীক্ষা হয়েছে। বিহার, ঝাড়খণ্ড, তেলেঙ্গানা ও মধ্যপ্রদেশের তুলনায় বাংলা অনেক এগিয়ে। গত সপ্তাহে প্রতিদিন করোনার পরীক্ষা হয়েছে ৯,২৭৫ জনের।’‌ সুব্রত আরও বলেন, ‘‌আমফান–‌ঝড়ের পর প্রধানমন্ত্রী মাত্র এক হাজার কোটি টাকা ঘোষণা করেছেন। এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মোকাবিলা এই টাকা দিয়ে কি সম্ভব?‌ মুখ্যমন্ত্রী নিজের উদ্যোগে পুনর্নির্মাণ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। আমাদের এই সমস্ত কাজের আরও প্রচার দরকার। করোনাকে নির্মূল করতে হবে। এই সময় কেউ কেউ বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। বাংলাকে বিজেপি অপদস্থ, অপমান করার চেষ্টা করছে। এর বিরুদ্ধে আমাদের আরও প্রচার করতে হবে। সামনে অনেক লড়াই বাকি।’
ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘‌কোনও পরিকল্পনা না করেই পরিযায়ী শ্রমিক পাঠিয়ে দেওয়া হল বাংলায়!‌ আমি মনে করি, রোগ ছড়ানোর জন্য এঁরা দায়ী নন। দায়ী প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বাংলাকে অসম্মান করাই এঁদের একমাত্র কাজ। বিজেপির কাছে আমরা মাথা নত করব না। স্বাধীনতার সময় থেকে বাংলা অনেক লড়াই করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা এখানে লড়াই করছি। আমফান নিয়ে যখন মুখ্যমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, বিজেপির নেতারা সেই সময় মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে ঘরে বসে থাকলেন। বাংলায় বিভেদের রাজনীতি ছড়াতে দেব না। স্টেশনে মায়ের মৃতদেহ দেখে যাঁরা বলেন, ছোটখাট ঘটনা, তাঁদের সম্পর্কে বলতে রুচিতে বাধে। এই সাম্প্রদায়িক দলের বিরুদ্ধে আমাদের লড়তে হবে।’‌
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ব্রাত্য বসু, সাধন পান্ডে, শশী পাঁজা সকলেই বিজেপির সমালোচনা করেন। অনেকেই বলেন, ‘‌লকডাউনের সময় মিটিং–‌মিছিল করা যাবে না। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে আমরা সরকারের কাজের প্রচার করতে পারি। বিজেপির বিরুদ্ধে পাল্টা জবাবও দিতে পারি। এটাই হবে এখন আমাদের প্রধান কাজ।’‌
২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে যেখানে দলের বিধায়ক নেই, সেখানে জেলার গুরুত্বপূর্ণ নেতা সাংবাদিক বৈঠক করেন এদিন।

জনপ্রিয়

Back To Top