আজকালের প্রতিবেদন: একুশে জুলাইয়ের সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার পথে আক্রান্ত হলেন তৃণমূলের কর্মী–সমর্থকেরা। তঁাদের বাস লক্ষ্য করে বোমাবাজি, রাস্তা আটকে মারধর, গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপি–‌আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। কোথাও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করতে শনিবার রাতভর বোমাবাজি, কর্মী–সমর্থকদের বাড়ি গিয়ে শাসানিও দেওয়া হয়। এসব উপেক্ষা করেই রবিবার যথারীতি ধর্মতলায় শহিদ সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন তঁারা। শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে বিজেপি–র এই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরব হন তৃণমূল নেত্রী, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন তিনি। আজ, সোমবার এর প্রতিবাদে মিছিলের নির্দেশ দেন তিনি।
সমাবেশে যাওয়ার আগেই শনিবার আরামবাগে তৃণমূল কর্মীদের বাস আটকে দেওয়া হয়। ভাঙচুর চালানো হয় কার্যালয়ে। তৃণমূলের আরামবাগ ব্লক সভাপতি স্বপন নন্দীর অভিযোগ, ‘‌বিজেপি–র পক্ষ থেকে বাস চালকদের হুমকি দেওয়া হয়। শহিদ সমাবেশে গেলে মারধর করা হবে বলে শাসানো হয় কর্মীদের। দুই দলীয় কর্মীকে লাঠি, রড, পাইপ দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে।’‌ গুড়াপে এক তৃণমূল নেতার গাড়িতে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিজেপি–র বিরুদ্ধে। এদিন সকালে ধর্মতলার সভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন তৃণমূল নেতা রথীন দে। গুড়াপের একটি বেসরকারি হোটেলের সামনে হঠাৎ তঁার স্করপিও গাড়িটি লক্ষ্য করে ঢিল ছোঁড়া হয়। গাড়ির পিছনের কাচ ভেঙে যায়। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপি–‌র সাংগঠনিক হুগলি জেলা সভাপতি সুবীর নাগ। 
ভয় দেখাতে শনিবার রাতভর পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে তাণ্ডব চালায় গেরুয়া বাহিনী। তৃণমূল কার্যালয়ে ভাঙচুর, কর্মীদের মারধর ছাড়াও সমাবেশে যাওয়া তৃণমূল কর্মীদের বাস লক্ষ্য করে বোমাবাজি করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাত ১১টা নাগাদ সমাবেশে যাওয়ার জন্য দলীয় কার্যালয়ে জড়ো হন তৃণমূলের কর্মী–সমর্থকরা। তখনই হামলা চালায় বিজেপি–র দুষ্কৃতী বাহিনী। কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায় তারা। এই ঘটনার পরও তৃণমূল কর্মীরা বাসে চেপে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন। এরপর রাত ১২টা নাগাদ এলাকার সাঁয়া–বেলদার কাছে তৃণমূল কর্মীদের সেই বাস লক্ষ্য করে বোমাবাজি শুরু করে বিজেপি–র দুষ্কৃতীরা। যদিও বিজেপি–র বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন দলের কাঁথি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অনুপ চক্রবর্তী।
শনিবার রাত ১২টা নাগাদ পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ার ছাতনা থেকে তৃণমূল কর্মীদের কয়েকটি বাস সমাবেশে যোগ দিতে যাচ্ছিল। ইন্দাসের নলডাঙাতে বাসগুলিকে লক্ষ্য করে বেপরোয়াভাবে ইট–পাটকেল ছোঁড়া হয়। অন্যদিকে ওন্দার কাটাবাড়ি এলাকার তৃণমূল কর্মীদের বাস আটকে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিজেপি–র বিরুদ্ধে। পুলিশ গেলে বিজেপি কর্মীরা তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। কয়েকজন পুলিস কর্মী আহত হন। ঘটনায় চারজন বিজেপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র:‌ তুফান মণ্ডল, মিল্টন সেন, যজ্ঞেশ্বর জানা ও আলোক সেন‌

জনপ্রিয়

Back To Top