আজকালের প্রতিবেদন- ৫ সতীপীঠের জেলা বীরভূমে বক্রেশ্বর ছাড়া বাকি ৪টি সতীপীঠ মন্দিরের দরজা সোমবার থেকে সাধারণ ভক্তদের জন্য খুলে গেল। তবে সিদ্ধপীঠ হিসেবে পরিচিত তারাপীঠের মন্দিরের দরজা সাধারণ ভক্তদের কাছে এখনও বন্ধই থাকল। তারাপীঠ মন্দির কমিটি ও সেবায়েত সমিতি ইতিমধ্যেই যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, মন্দির বন্ধ রাখার মেয়াদ আপাতত আরও দু’‌সপ্তাহ বাড়িয়ে ১৫ মে পর্যন্ত করা হয়েছে। ১৪ মে ফের তাঁরা বৈঠকে বসে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মন্দির খোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান তারাপীঠ মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখার্জি। অন্যতম সতীপীঠ বক্রেশ্বরের মন্দিরের দরজাও এদিন সাধারণ ভক্তদের জন্য উন্মুক্ত হয়নি। 
এদিকে, সরকারি ছাড়পত্র পাওয়া মাত্র কালবিলম্ব না করে সোমবার থেকেই সাধারণ ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে বীরভূমের বাকি ৪ সতীপীঠ নলাটেশ্বরী (নলহাটি), নন্দিকেশ্বরী (সাঁইথিয়া), ফুল্লরাতলা (লাভপুর) ও কঙ্কালীতলার (বোলপুর) মন্দিরের দরজা। তবে এই মন্দিরগুলিতে এদিন পুজো দিতে আসা ভক্তদের সংখ্যা ছিল খুবই কম। সাঁইথিয়ার নন্দিকেশ্বরী মন্দিরে এদিন দেখা যায়, করোনা সতর্কতার প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনেই পুণ্যার্থীদের পুজোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। মূল মন্দির–চত্বরে প্রবেশের আগেই একটি বড়সড় পাত্রে রাখা সাবানজলে পা ধুয়ে আসতে হচ্ছে পুণ্যার্থীদের। এরপর মন্দিরে ফলমূল–সহ পুজোসামগ্রী দেওয়ার আগে পুজো দিতে আসা ভক্তদের হাতে স্যানিটাইজার দেওয়া হচ্ছে। পুরোহিতমশাইও ভক্তদের কাছ থেকে পুজোসামগ্রী নেওয়ার পর হাতে স্যানিটাইজার নিচ্ছেন। ভক্তরা যাতে সামাজিক দূরত্ব মেনে দাঁড়ান, সেজন্য নির্দিষ্ট ব্যবধানে গোল গোল দাগ দিয়ে সুরক্ষা বলয় আঁকা হয়েছে। 
অন্যদিকে, খোলা হল মা কল্যাণেশ্বরী মন্দিরও। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে হয়েছে মায়ের পুজো–অর্চনা। ভক্তরা মুখে মাস্ক পরে পুজো দিতে আসছেন। এতে খুশি মন্দিরের পুরোহিত থেকে শুরু করে দোকানদার এবং অন্যরা। মন্দিরের পুরোহিত জয় মুখার্জি জানান, ‘‌লকডাউনের জন্য সরকারি নির্দেশে গত দু’‌মাস মন্দির বন্ধ ছিল। কিন্তু আমরা মায়ের নিত্যপূজা বন্ধ করিনি। আজ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মন্দির খোলা হল।’‌ মন্দিরের কাছেই দোকানদার পরদেশী মালি বলেন, ‘‌লকডাউনের পর থেকে মন্দির বন্ধ থাকায় আমাদের খুব কষ্টে দিন গেছে। মন্দির খোলায় আমার সবাই খুব খুশি।’‌

লকডাউনের পর খুলে গেল কল্যাণেশ্বরী মন্দির। ছবি:‌ জয়ন্ত সাহা‌
                             

তথ্যসূত্র:‌ অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায় ও দেবব্রত ঘোষ।

জনপ্রিয়

Back To Top