উদয় বসু: বেঙ্গল মিউনিসিপ্যাল অ্যাক্ট অনুযায়ী পুরপ্রধান অপসারিত হলে পুরপ্রধানের সমস্ত দায়িত্বভার গ্রহণ করতে হয় উপপুরপ্রধানকে। সেই নিয়ম অনুযায়ী ভাটপাড়া পুরসভার পুরপ্রধানের সমস্ত কাজ শুরু করেছেন উপপুরপ্রধান সোমনাথ তালুকদার। ব্যাঙ্কের কাগজপত্র–সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ নথিতে স্বাক্ষর এবং কাউন্সিলরদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেছেন। বুধবার তিনি কাউন্সিলরদের নিয়ে একটি বৈঠক করার পর জানান, এদিন থেকেই পুরসভার ক্যাজুয়াল এবং আরবান কর্মীদের বকেয়া প্রদানের কাজ শুরু হল। তা ছাড়া বিধবা ভাতা, মিড–ডে মিল–সহ অন্যান্য সামাজিক যোজনায় কিছু বকেয়া রয়েছে। কর্মীদের বকেয়া মেটানো হলেই অন্যান্য বিষয় দেখা হবে। মঙ্গলবার থেকে পুরপ্রধানের যাবতীয় কাজ শুরু করেছেন সোমনাথ। দ্বিতীয় দফায় অনাস্থা ভোটের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, কবে হবে জানা নেই। ভোটের দিনক্ষণ নেতৃত্ব ঠিক করছেন।
তৃণমূলের টিকিট না পেয়ে বিজেপি–তে যোগ দেন অর্জুন সিং। তখন তিনি ভাটপাড়া পুরসভার পুরপ্রধান। স্থানীয় বিধায়কও বটে। বিজেপি তাঁকে ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী করে। এর পরই অর্জুনকে ভাটপাড়া পুরসভার পুরপ্রধানের পদ থেকে অপসারণ করা হয়। তিনি বিধানসভায় গিয়ে বিধায়ক পদ থেকেও ইস্তফা দিয়ে আসেন। উপপুরপ্রধান সোমনাথ তালুকদার তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন। এর বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ চাইলে অর্জুনের আবেদন খারিজ করে হাইকোর্ট। অনাস্থা ভোটে অর্জুন তাঁর পদ হারান। গোপন ব্যালটে সভাপতি নির্বাচনে বিজেপি–র প্রার্থী হেরে যান। সিদ্ধান্ত হয় দ্বিতীয় দফা অনাস্থা ভোটে পুরপ্রধান কে হবেন, তা নির্ধারিত হবে। অর্জুনের দাবি, তাঁর সঙ্গে বেশির ভাগ কাউন্সিলরই রয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, ১১ জন ছাড়া বাকি কাউন্সিলর তাঁর বিরুদ্ধে। অর্জুনের বক্তব্য, প্রথম দফায় ভোটে যা হয়েছে তা তাঁর স্ট্র‌্যাটেজিতেই হয়েছে। দ্বিতীয় দফা ভোটে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top