সব্যসাচী সরকার: নোটবন্দির পর সোনার বিনিময়ে টাকা দেওয়ার রহস্যে ভারতী ঘোষের স্বামী মোতামারি বীর রাজুর নতুন সম্পত্তির হদিশ পেল সিআইডি। বীর রাজুর নামেই ৫টি আলাদা সম্পত্তির হদিশ পেয়েছে সিআইডি। সিআইডির দাবি, একটি রিসর্ট এবং ৪টি বড় আয়তনের জমি তাঁর নামে রয়েছে। সিআইডি আগে যে সম্পত্তির তালিকা তৈরি করেছিল, তাতে প্রায় ২১টি বিভিন্ন আয়তনের জমি ভারতী ও তাঁর স্বামীর নামে ছিল। সিআইডি তখনই জানিয়েছিল, আরও সম্পত্তির খোঁজ মিলছে। এ ছাড়াও ৩টি ফ্ল্যাট মিলেছে। ওই সোনা সংগ্রহ করার পর বিনিময় হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা অবশ্য তদন্তসাপেক্ষ। ইতিমধ্যেই আড়াই কোটি টাকারও বেশি নগদ মিলেছে তল্লাশিতে। মিলেছে ঘরভর্তি বিদেশি মদের বোতল। যদিও ভারতী ঘোষ এ সমস্ত বিষয়ই তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত বলে জানিয়েছেন। স্বামী বীর রাজু পুলিসকে সমস্ত কাগজপত্র দাখিল করে জানিয়েছিলেন— তিনি নিয়মিত কর দেন এবং যে সমস্ত সম্পত্তির কথা বলা হচ্ছে, সেগুলির ক্ষেত্রে সমস্ত কাগজপত্র ও অর্থের উৎস বৈধ।
ভারতী–‌কাণ্ডে ইতিমধ্যেই পুলিসকর্মী–‌সহ মোট ৬ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। কারণ, নোটবন্দির পর বাতিল নোটের বিনিময়ে সোনা বাজার থেকে তোলা হয়েছিল। এই অভিযোগের তদন্তের সূত্র খুঁজতে গিয়ে দেখা গেছে, নগদের বদলে সোনা–‌ই সম্ভবত বিনিময় মূল্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। যদিও বীর রাজুও বারে বারেই বলেছেন, চক্রান্তের শিকার। তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর ভাবমূর্তিতে কালি মাখানোর চেষ্টা।
সিআইডির একটি দল ভারতী ঘোষের সন্ধানে দিল্লি গিয়েছিল। সেই দল ফিরে এসেছে। অন্যান্য রাজ্যেও মোবাইল ও অন্যান্য সূত্রে খোঁজ করা হয়েছে। তবে, ভারতী ঘোষকে এখনও খুঁজে পায়নি সিআইডি। তিনি এ দেশেই রয়েছেন। বিদেশে একবারও যাননি। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চলছে। বীর রাজু ইতিমধ্যেই কলকাতার দুটি থানায় তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রেক্ষিতে জামিন নিয়েছেন। কিন্তু বীর রাজুর রিসর্টের সন্ধান ঘিরে নতুন করে তদন্তের অভিমুখ বদলাচ্ছে সিআইডি। দীর্ঘদিন ভারতী ঘোষও সিআইডির তদন্ত–‌প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য ও নৈতিকতা নিয়ে অডিও বার্তা দিচ্ছেন না। বীরভূমেই বীর রাজুর জমি, সম্পত্তির পরিমাণ বেশি, এমনটাই মনে করছে সিআইডি। যে সময়–‌পর্বে কেনা ও রেজিস্ট্রেশন হয়েছিল, তখন ভারতী ঘোষ জেলার পুলিস সুপার পদে। অবশ্য ভারতী ঘোষ বারে বারে বলেছেন, সবই অসত্য ও চক্রান্ত।‌

জনপ্রিয়

Back To Top