শিখর কর্মকার: দুর্গা পুজো মানে শুধু দল বেঁধে ঠাকুর বা মণ্ডপ দেখা নয়। পরিবার–‌পরিজন, বন্ধু–‌বান্ধবের সঙ্গে দেশ ভ্রমণে বের হয়ে শারদোৎসবের আনন্দে শামিল হওয়া বাঙালির সংখ্যা নিছক কম নয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত শুধু নয়, দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতেও এখন পা রাখছে বাঙালি পর্যটকরা। তবে সংখ্যার নিরিখে এবার পুজোয় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বাঙালি ছুটছে উত্তরবঙ্গ আর পুরীতে। দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান, রাজস্থান, কিংবা উত্তর ভারতের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে বেড়াতে যাচ্ছেন বহু বাঙালি পর্যটক। এশিয়া, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পুজোর ছুটি কাটাতে যাওয়া বাঙালির সংখ্যা নেহাত কম নয়। অশান্তির মেঘ কেটে যাওয়ার পর থেকেই বাঙালি ফের দার্জিলিংমুখী হয়েছে। এবার পুজোয় ওই শৈলশহরে বেড়াতে যাচ্ছেন বহু বাঙালি। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্সেও ছুটছেন বাঙালি পর্যটকরা। উত্তরবঙ্গের মতো বহু পর্যটক ঢুকবেন অসম, অরুণাচলপ্রদেশ, নাগাল্যান্ডের মতো উত্তর–‌পূর্বাঞ্চলের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে। ট্রেনের টিকিট, হোটেলের ঘরের চাহিদা দেখিয়ে দিচ্ছে বাঙালি পর্যটকের পুজোর সময় উত্তরবঙ্গের প্রতি চাহিদা। অক্টোবর মাসের ৫ তারিখ থেকে এবার পুজো শুরু। দিনটি শনিবার। তাই আগের দিন ৪ অক্টোবর থেকেই উত্তরবঙ্গমুখী ট্রেনগুলোর অগ্রিম টিকিটের চাহিদা তুঙ্গে উঠেছে। ৪ মাস আগে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার প্রথম দিনই উত্তরবঙ্গগামী নামী সব ট্রেনের সংরক্ষিত আসনের টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। কোনও কোনও ট্রেনের চাহিদা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সেইসব আসনে টিকিট বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ৪ অক্টোবর দার্জিলিং মেলের স্লিপার ক্লাসের ওয়েটিং লিস্ট ৬৮১–‌তে পৌঁছে গেছে। ওই দিনের পদাতিক এক্সপ্রেসের স্লিপার ক্লাস ওয়েটিং এখন ৫৫৪। ওই দিন দার্জিলিং মেলের এসি থ্রি–‌টিয়ারের ওয়েটিং ৫১৪ আর পদাতিক এক্সপ্রেসের ওয়েটিং ৫৫৩। চাহিদা অত্যধিক হওয়ায় একই তারিখে পদাতিক এক্সপ্রেসের এসি টু–‌টিয়ার আর দার্জিলিং মেলের এসি ফার্স্ট ক্লাসের অগ্রিম টিকিট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।  
৫ অক্টোবরের পদাতিক এক্সপ্রেসের এসি ফার্স্ট ক্লাসেরও একই হাল হয়েছে। ৫ থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত এই দুই ট্রেনের স্লিপার ক্লাসের ওয়েটিং ৩০০–র ওপরে পৌঁছে গেছে। কোনও ক্ষেত্রে তা ৪০০ ছাপিয়ে গেছে। উত্তরবঙ্গমুখী অন্য ট্রেন উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস, তিস্তা–তোর্সা এক্সপ্রেস, কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস বা কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের মতো ট্রেনগুলোর সংরক্ষিত আসনের টিকিটের চাহিদা ইতিমধ্যে তুঙ্গে উঠেছে। ফলে, ইতিমধ্যে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্থানের হোটেলের ঘর‌ বুক করা পর্যটকরা তাকিয়ে আছেন রেলের পুজো স্পেশ্যাল ঘোষণার দিকে। কেউ কেউ বিকল্প সড়কপথে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। উত্তরবঙ্গের পরই বাঙালির চাহিদায় চলে এসেছে পুরী। এবার পুজোয় বহু বাঙালি ভিড় জমাবেন সৈকতশহর পুরীতে। সমুদ্র দর্শনের পাশাপাশি দর্শন করবেন জগন্নাথদেব। ৪ অক্টোবর পুরী এক্সপ্রেসের স্লিপার ক্লাসে ওয়েটিং ২১৭–‌তে পৌঁছে গেছে। ওই দিনের শ্রীজগন্নাথ এক্সপ্রেসের ওই ক্লাসে ওয়েটিং ২০০ ছাড়িয়ে গেছে। উচ্চশ্রেণির সব টিকিটই ওয়েটিং–‌এ চলে এসেছে।
৫ থেকে ৭ তারিখে ওই দুই ট্রেনের স্লিপার ক্লাসের ওয়েটিং ২০০–র দোর গোড়ায় পৌঁছেছে। পুরীগামী ধৌলি এক্সপ্রেস, গরিব রথ, দুরন্ত এক্সপ্রেসের মতো প্রায় সব ট্রেনের সংরক্ষিত আসনের একই হাল। কুণ্ডু স্পেশালের কর্ণধার সৌমিত্র কুণ্ডু জানান, এবার পুজোয় আন্দামান যাওয়ার প্রতি সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পর্যটকের আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া রাজস্থান, কেরালা, নৈনিতাল, গুজরাটেও যাচ্ছেন বহু পর্যটক। পুজো থেকে দেওয়ালির মধ্যে তাঁদের সংস্থা ২২ ট্যুরে প্রায় ৯০০ পর্যটককে বেড়াতে নিয়ে যাচ্ছে। মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে বুকিং শুরুর প্রথম দিনেই সব আসন পূর্ণ হয়ে গেছে বলে তিনি জানান। ভারততীর্থ দর্শনের কর্ণধার সুশান্ত রক্ষিত জানান, উত্তরবঙ্গে এবার পুজোয় বিরাট সংখ্যক বাঙালি বেড়াতে যাচ্ছেন। ট্রাভেল এজেন্ট ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার পূর্বাঞ্চলের চেয়ারম্যান অনিল পাঞ্জাবী জানান, বিশ্বকাপ ক্রিকেটের জন্য এ বছর বহু পর্যটক ইংল্যান্ড গিয়েছিলেন। তাই পুজোয় এবার ওই দেশে পর্যটক কম। তবে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ার মতো কাছের দেশগুলো বাদেও ফ্রান্স, ইতালির মতো ইউরোপের নানা দেশে পুজো ভ্রমণ সারবেন অনেকেই। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top