‌আজকালের প্রতিবেদন: আমফানের তাণ্ডবে বিপুল ক্ষতি দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে। কার্যত দিশেহারা জেলার মানুষ। অধিকাংশ জেলাতেই বিদ্যুৎ বিপর্যয়। রয়েছে পানীয় জলের সমস্যা। নদিয়া জেলায় ঝড়ে ছ’‌জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। সবথেকে চিন্তায় ফেলেছে চাষের ক্ষতি। তবে প্রশাসনের ভূমিকায় ফের ঘুরে দঁাড়াতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন দুর্গত এলাকার মানুষজন। 
হিঙ্গলগঞ্জ সন্দেশখালির বহু গ্রাম জলের তলায়। বিদ্যুৎ নেই। মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল ও অনিয়মিত। কোথাও কোথাও ত্রাণ এখনও ঠিকমতো পৌঁছয়নি। বাঁধের কাজ শুরু হলেও গ্রামে জল ঢোকা রোধ করা যায়নি। হিঙ্গলগঞ্জের ক্ষয়ক্ষতি সব থেকে বেশি। রায়মঙ্গল, কালিন্দী, গৌড়েশ্বর নদীর বাঁধ ভাঙা জল গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত করেছে। 
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের তরফে পানীয় জলের পাউচ সব পঞ্চায়েতে পাঠানো হচ্ছে। শুকনো খাবার, তারপোলিন পর্যাপ্ত দেওয়া হয়েছে। এদিন বসিরহাটের সাংসদ নুসরত জাহান মিনাখাঁর মালঞ্চ ও চৈতলে দুর্গত এলাকায় যান। চৈতল গ্রাম পঞ্চায়েতের ত্রাণ শিবিরে তিনি দুর্গতদের সঙ্গে কথা বলেন। 
এদিকে, আমফানের তাণ্ডবে রাজ্যের ‘শস্যগোলা’ পূর্ব বর্ধমান জেলায় ২১ মে পর্যন্ত রিপোর্টে প্রায় ২৭৫ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে জানালেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। বোরো ধান, তিল এবং সবজি চাষে এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বর্ধমানে আসছেন জেলার পর্যবেক্ষক–মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।
শুক্রবার জেলা পরিষদের সভাকক্ষে কর্মাধ্যক্ষ, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং বিধায়কদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। বৈঠকে করোনা ভাইরাস এবং এই ঘূর্ণিঝড়ের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। এখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সমস্ত জনপ্রতিনিধি ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট পঞ্চায়েতের মাধ্যমে জেলাশাসকের কাছে পাঠাবেন। বর্ধমান জেলা পরিষদও রিপোর্ট পাঠাবে জেলাশাসকের কাছে।
এছাড়া, নদিয়া জেলায় আমফানে ছ’‌জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জেলাশাসক বিভু গোয়েল জানিয়েছেন। এঁদের মধ্যে চারজন কল্যাণী মহকুমা এলাকার। বাকি দু’‌জন  কৃষ্ণনগর মহকুমা এবং রানাঘাটের বাসিন্দা। এদিন তিনি আরও বলেন, জেলায় অন্তত ৬০ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আম, লিচু, কলা, সবজি, পান, পাট এবং ফুলের। ঝড়ের প্রভাব পড়েছে প্রায় সাত লক্ষ মানুষের ওপর। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুসারে, জেলায় ১৫ হাজার ৩৮৪টি কাঁচা বাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে। আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৮ হাজার ৫৪টি বাড়ি। ঝড়ের জন্য ৩৩৬২ জন মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যেতে হয়। 
আমফানের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বীরভূমে। ক্ষয়ক্ষতির পর্যালোচনা করার জন্য শুক্রবার জেলার কৃষি, সেচ, বিদ্যুৎ, জনস্বাস্থ্য কারিগরি, হর্টিকালচার, বিপর্যয় মোকাবিলা প্রভৃতি দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে যৌথভাবে বৈঠক করল জেলা প্রশাসন এবং জেলা পরিষদ। বৈঠকে হাজির ছিলেন জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু, জেলা পুলিশ সুপার শ্যাম সিং এবং জেলা পরিষদের মেন্টর অভিজিৎ সিনহা প্রমুখ।
বৈঠক শেষে অভিজিৎ সিনহা জানান, আমফানের তাণ্ডবে বীরভূম জেলায় ৪৪ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই সময়ের সবজি ও তিল চাষ। জেলায় ৪০০ বাড়ি কাঁচা বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে গেছে। আংশিকভাবে ভেঙেছে ১৬০০ কাঁচা বাড়ি। ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক হিসেব এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে তিনি জানান। তবে এই জেলায় আমফানে কোনও মৃত্যু বা প্রাণহানির খবর নেই।
আমফান ঝড়ে জেলায় ৩৫টি বিদ্যুতের ট্রান্সফর্মার ভেঙে পড়ায় প্রচুর গ্রাম বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা তৎপরতার সঙ্গে কাজ করে সেইসব গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ ফের চালু করেছেন। জেলার ১৯ ব্লকের মধ্যে ১৬টি ব্লক এই ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তথ্যসূত্র:‌ স্বদেশ ভট্টাচার্য, বিজয়প্রকাশ দাস, 
অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায়।‌

জনপ্রিয়

Back To Top