আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ মেয়ের শ্বশুরবাড়ি থেকে একটা ফোন এসেছিল। কিন্তু অপরপ্রান্ত থেকে কোনও কথা শোনা যায়নি। এরপর সরাসরি সোনারপুর থেকে বাঁকুড়ায় মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে চলে গিয়েছিলেন মা–বাবা। গিয়ে যা দেখলেন, তাতে মা–বাবার চোখে নেমে এল অন্ধকার। খাটের ওপর পড়ে রয়েছে মেয়ের নিথর দেহ। শ্বশুরবাড়ির লোক বলেছিল, ‘‌আত্মহত্যা করেছে বৌমা।’‌ মেয়ের মা–বাবার সামনে কান্নাকাটিও জুড়েছিল তারা। কিন্তু বাঁকুড়ার গৃহবধূ রিমি আঠার রহস্যমৃত্যুতে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য।
সোনারপুরের রিমির সঙ্গে বছর দশেক আগে বিয়ে হয় বাঁকুড়ার কমলা মাঠের বাসিন্দা পিন্টু আঠার। পিন্টু একটি দোকানে কাজ করে। নিজের প্রায় সবটুকু সঞ্চয় দিয়েই মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন রিমির বাবা। প্রথম কয়েকটা বছর ভালই কেটেছিল। তারপরই শুরু হয়েছিল অশান্তি। বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চাপ দেওয়া হত রিমিকে। 
এরইমধ্যে রিমি ও পিন্টুর এক সন্তান হয়। সন্তান হওয়ার পর রিমির উপর অত্যাচারের মাত্রা আরও বাড়ায় স্বামী, শাশুড়ি এবং দেওর। এরপর বাপেরবাড়ির উদ্যোগেই স্বামী, সন্তানকে নিয়ে আলাদা সংসার পাতেন রিমি। কিন্তু অশান্তি থামেনি। বরং তা বেড়ে চলছিল। ইদানীং মদ খেয়ে বাড়িতে ঢুকে স্ত্রীর ওপর অত্যাচার শুরু করেছিল পিন্টু।
ঘটনার দু’‌দিন আগে রিমির বাড়িতে ফোন আসে। পরিবারের দাবি, ফোনে কেউ কোনও কথা বলেনি। তারপরই রিমির মা–বাবা বাঁকুড়া যান। সেখানে গিয়ে মেয়ের নিথর দেহ উদ্ধার করেন তাঁরা। শ্বশুরবাড়ির লোকের অবশ্য দাবি, আত্মহত্যা করেছেন রিমি। কিন্তু মেয়ের শরীরের একাধিক জায়গায় সিগারেটের ছ্যাঁকা ও কালসিটে দাগ দেখতে পান রিমির মা–বাবা। শরীরের বিভিন্ন অংশে ছিল কাটা দাগ। এরপর বাঁকুড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন রিমির বাবা। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, পণের দাবিতেই খুন করা হয়েছে রিমিকে। যদিও এই ঘটনায় এখনও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। 

মৃত রিমি আঠা। 

জনপ্রিয়

Back To Top