তারিক হাসান: একসঙ্গে বেশি টাকা তোলা যাবে না। ব্যাঙ্কে টাকা তুলতে গিয়ে এরকম জানতে পেরে সমস্যায় পড়লেন অনেকে। সরকারি কোনও সিদ্ধান্ত নয়, টাকার জোগান কম থাকায় এই পদ্ধতি। কোথাও বলে দেওয়া হল, একজন ১০ হাজারের বেশি তুলতে পারবেন না। তো কোথাও আবার বলে দেওয়া হল, সপ্তাহে তোলা যাবে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা। কোথাও আবার টাকা তুলতে গিয়ে কেউ দেখলেন ক্যাশিয়ারই এসে পৌঁছতে পারেননি। ফলে টাকা দেওয়া যাচ্ছে না। লকডাউনের প্রথম দিন ব্যাঙ্কে গিয়ে এরকম নানা পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হল গ্রাহকদের।
সমস্যা ব্যাঙ্ক কর্মীদেরও। লকডাউন শুরু হওয়ায় যান–চলাচল বন্ধ। ট্রেন, মেট্রোও চলছে না। ফলে দূরে থাকেন এমন ব্যাঙ্ক কর্মীদের অনেকেই আসতে পারেননি। যাঁদের কর্মস্থলের কাছাকাছি বাড়ি তাঁরা কয়েকজন এসেছেন। ফলে বেশ সংক্ষিপ্ত পরিসরেই চলছে ব্যাঙ্কের শাখাগুলির কাজ। একই সমস্যা এটিএমেও। অন্য এটিএম সেখান থেকে ২ কিলোমিটার দূরে। কিন্তু যাবেন কী করে?‌ রাস্তায় যানবাহনই তো নেই।
কেন হঠাৎ ব্যাঙ্কের কিছু শাখায় টাকা তোলার ক্ষেত্রে মৌখিকভাবে ঊর্ধ্বসীমা ঠিক করে দেওয়া হয়েছে?‌ অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রাজেন নাগর জানিয়েছেন, টাকার জোগান ঠিকই আছে। কিন্তু লকডাউন শুরু হওয়ায় কর্মীরা ঠিকমতো ব্যাঙ্কের শাখায় যেমন আসতে পারছেন না, তেমনই বিভিন্ন শাখায় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক থেকে টাকা নিয়ে যাওয়ার কর্মীর সংখ্যাও কমেছে। স্বাভাবিকভাবেই অনেক শাখায় টাকার জোগান কমছে। সকলেই যাতে টাকা তুলতে পারেন সেজন্য সংশ্লিষ্ট শাখার ব্যাঙ্ক কর্মীরা সাময়িকভাবে এই ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, কোনও কোনও এটিএমেও এই সমস্যা হতে পারে। কারণ, সব ক’‌টি এটিএমের চেস্টে টাকা ভরতে যত সংখ্যক কর্মী দরকার ততজন আসতে পারছেন না। যাঁরা আসছেন, তাঁরাই পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এটিএমে টাকা ভরছেন। স্বাভাবিকভাবেই অনেক এটিএম খালি হয়ে যাচ্ছে। ‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top