আজকালের প্রতিবেদন- সোমবার কংগ্রেস–বামেদের ডাকা ভারত বন্‌ধে কোনও প্রভাব পড়ল দক্ষিণবঙ্গেও। প্রতিদিনের মতো এদিন বাজার–হাট খোলা ছিল। স্কুল–কলেজে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি ছিল আরও পাঁচটা দিনের মতোই। যানবাহনের গতিরও কোনও হেরফের হয়নি। বন্‌ধ বলে বোঝার কোনও উপায় ছিল না সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনটিকে। আসানসোল, দুর্গাপুর, হলদিয়ার মতো শিল্পাঞ্চলেও বন্‌ধে কোনও সাড়া পড়েনি। 
আসানসোলে কলকারখানাগুলিতে উপস্থিতির হার স্বাভাবিক ছিল। স্কুল–কলেজ খোলা ছিল। সালানপুরের রূপনারায়ণপুর বাজারে প্রতিদিনের মতো এদিনও কেনাকাটা হয়েছে। দোকানপাট খোলা রাখার জন্য আবেদন জানিয়ে ছিলেন স্থানীয় তৃণমূল সমর্থকরা। মানুষ তাঁদের আবেদনে সাড়া দেন। কংগ্রেস সমর্থকরা রাস্তায় নেমে আসানসোল পুরনিগমের সামনে বাস বন্ধ করতে গেলে পুলিসের সঙ্গে তাঁদের ধস্তাধস্তি হয়।
বন্‌ধে সাড়া দেননি পূর্ব বর্ধমানের বাসিন্দারা। উল্টে মানুষের ভিড় আর যানবাহনের দাপটে শহরের কার্জনগেট এলাকায় ব্যাপক যানজট হয়। অন্য দিনের মতোই স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস–আদালত সব খোলা ছিল। শুধু তাই নয়, সর্বত্রই খোলা ছিল সবজির দোকান। ট্রেন–বাস চলেছে স্বাভাবিক ভাবেই। বাঁকুড়া জেলায় সর্বত্রই দোকানপাট, হাটবাজার ছিল খোলা। অফিস, আদালত, ব্যাঙ্ক, ডাকঘরে উপস্থিতি ছিল স্বাভাবিক। তৃণমূলের পক্ষ থেকেও বন্‌ধের বিরোধিতা করে দোকানপাট–সহ জনজীবন স্বাভাবিক রাখার আবেদন জানানো হয়। 
বন্‌ধ প্রভাব পড়ল না পশ্চিম মেদিনীপুরেও। এদিন সকাল থেকেই সমস্ত রুটে সরকারি বাস চলাচল করছে। বিশ্ববিদ্যালয়, সমস্ত স্কুল–কলেজ, খড়্গপুর আইআইটি খোলা ছিল। উপস্থিতির হার ছিল বেশি। কংগ্রেস নেতা–কর্মীরা জোর করে কালেক্টরেট গেট বন্ধ করতে গেলে পুলিসের সঙ্গে তাঁদের ধস্তাধস্তি বাধে। বন্‌ধ সমর্থকরা এদিন ডেবরায় জাতীয় সড়ক, বালিচকে রেল অবরোধ করতে গেলে পুলিস হঠিয়ে দেয়। খড়্গপুর ও শালবনি শিল্পাঞ্চলেও বন্‌ধের কোনও প্রভাব পড়েনি। পুরুলিয়া স্টেশনে প্রচুর যাত্রীদের ভিড় দেখা যায় প্রতিটি ট্রেনে। দোকান বাজার খোলা ছিল।
‌ডায়মন্ড হারবার ও কাকদ্বীপে বন্‌ধের কোনও প্রভাব পড়ল না। প্রতিদিনের মতো এদিনটিও ছিল স্বাভাবিক ছন্দে। অন্য দিনের মতো দূরপাল্লার বাস চলেছে স্বাভাবিক। স্কুল–কলেজ ও সরকারি অফিসে হাজিরা ছিল স্বাভাবিক। সুন্দরবন ও ডায়মন্ড হারবারের সমস্ত ফেরি সার্ভিস চালু ছিল। ফলতা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে শ্রমিকদের হাজিরা ছিল প্রায় ১০০ শতাংশ। তবে ডায়মন্ড হারবার, লক্ষ্মীকান্তপুর, কাকদ্বীপে বনধের সমর্থনে মিছিল করেন বামেরা। কিছুক্ষণের জন্য রাস্ত অবরোধও করেন। কিন্তু পুলিস সেই অবরোধ তুলে দেয়। তৃণমূলের পক্ষ থেকে তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে মিছিল করা হয়।
তথ্যসূত্র:‌  দেবব্রত ঘোষ, বিজয়প্রকাশ দাস, বুদ্ধদেব দাস, ‌‌‌আলোক সেন, দীপেন গুপ্ত‌ ও গৌতম মণ্ডল

ভারত বন্‌ধের বিরোধিতায় এবং পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে মেদিনীপুরে তৃণমূলের মিছিল। ছবি:‌ স্বরূপ মণ্ডল

জনপ্রিয়

Back To Top