অলক সরকার,ইসলামপুর: অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান চালিয়েছিল ইসলামপুর পুলিশ। পাকড়াও হয়েছিলেন ইসলামপুর মেলা মাঠের মহম্মদ আশফা‌ক। মত্ত মনে করায় আটক করে নিয়ে আসা হয় তাঁকেও। কিন্তু পুলিশি হেফাজতে এসেই রফির গানে মাত করতে শুরু করেন আশফাক। সুরের জাদুতে পুলিশ অফিসারেরা থানার মধ্যেই গোল হয়ে বসে সকলে শুনতে শুরু করেন আশফাকের গান। 
ইসলামপুর থানার আইসি শমীক চ্যাটার্জি তো খুশি হয়ে শাস্তির বদলে উল্টে বকশিস দিয়ে ফেললেন। এরই মধ্যে আবেগে আপ্লুত হয়ে ইসলামপুর থানার ‘‌টাউন বাবু’‌ শমীক চক্রবর্তী সেই গানের ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করে দেন। দেখতে দেখতে আশফাকের গানের ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। একদিনেই আশফাক তারকা। পুলিশ আয়োজিত অনুষ্ঠানে গান করার জন্য বুকিংও করা হয়ে গেল আশফাককে।
মহম্মদ আশফাকের পরিবারের সকলেই কমবেশি গানের চর্চা করেন। তবে প্রথাগত নিয়মে নয়। একদমই ভালবেসে গান করা যাকে বলে। জানা গেছে, অনেক গুণী কাওয়ালি শিল্পীর সঙ্গে তাঁদের পরিবারের নানা সূত্রে সম্পর্ক আছে। নিজেরা সেভাবে শিল্পী না হলেও রক্তে গানের একটা বীজ আছে। সেই টানেই আপন মনে গান করেন আশফাক। কিন্তু পুলিশি অভিযানে ঘটনাক্রমে আটক হন তিনি। থানায় নিয়ে আসার পর ভাল করে খতিয়ে দেখার পর পুলিশ বুঝতে পারে আশফাক অপরাধী কেউ নন। 
আইসি শমীক চ্যাটার্জি জানান, ‘‌আমরা জানতে পেরেই থানা থেকে ছেড়ে দিই ওঁকে। কিন্তু আশফাক আমাদের গান শোনাতে চাইলে আমরা তাঁর শখ পূরণ করানোর জন্যই গান গাইতে বলি। ওঁর গান শুনে আমরা সবাই মুগ্ধ হয়ে পড়ি। তাই যেভাবে ওঁকে উৎসাহিত করা যায়, করার 
চেষ্টা করেছি।’‌ 
জানা গেছে, কালীপুজো শেষ হয়ে গেলেও কালিয়াগঞ্জ উপনির্বাচনের কারণে পুলিশ এখনও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতে পারেনি। ভোটের পরেই হবে। সেই অনুষ্ঠানের জন্যেই আশফাককে অগ্রিম বুকিং করা হয়েছে। আপাতত সেই আশফাকের ভিডিও ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই চর্চাতেই মশগুল গোটা ইসলামপুর।

থানায় গান করছেন আশফাক। ছবি:‌ গৌতম শিকদার‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top