প্রদীপ দে,বহরমপুর: ফরাক্কা সেতুর পর, বহরমপুরে ভাগীরথী নদীর ওপর সেতু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেই সেতু নাকি যে কোনও সময়ে ভেঙে পড়বে। এমন খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কয়েদিন ধরে প্রচার হচ্ছিল। এই বিভ্রান্তিমূলক প্রচারের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বুধবার জেলাশাসক, এসপি, জাতীয় সড়ক ও পূর্ত দপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা সেতু পরিদর্শন করে জানিয়ে দিলেন, বহরমপুর সেতু ভাল আছে। গুজবে কান দেবেন না। পুলিসও এই গুজবের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। 
সেতু ভেঙে পড়বে এমন গুজব কারা ছড়াচ্ছে। ভাগীরথী নদীর ওপর ৫১ বছর আগে ১৯৬৭ সালে এই সেতু তৈরি হয়েছিল। মুর্শিদাবাদের কৃতী সন্তান রামেন্দ্র সুন্দর ত্রিবেদীর নামে সেতুর নামকরণ করা হয়। ২৮০ মিটার লম্বা এই সেতুর রেলিং ভাঙে ১৯৯৯ সালে। সেই সময় একটি সরকারি বাস ভাগীরথীর জলে পড়ে যায়। মৃত্যু হয়েছিল ৩৩ জনের। মাঝে সেতুর অবস্থা সত্যি শোচনীয় হয়েছিল। রেলিঙের বেশ কিছু অংশ ভাঙা ছিল। সেতুর মাঝে গর্ত হয়েওছিল। সেতুতে আলোর ব্যবস্থা ছিল না। কিন্তু তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সেতুর হাল ফিরেছে। এই মূহূর্তে সেতুর কোনও রেলিং ভাঙা নেই। সেতুর ফুটপাথ দিয়ে অনেক সময় বাইক সাইকেল যেত। সেটি বন্ধ হয়েছে। 
এদিন জেলাশাসক পি উলগানাথন, এস পি মুকেশ সেতু ঘুরে দেখেন। উলগানাথন বলেন, ‘‌জাতীয় সড়কের ইঞ্জিনিয়াররা দেখেছেন। তারা জানান, সেতুর অবস্থা ভাল। এখনও মজবুত। তবে মাঝে মাঝে যে ফাঁকফোঁকর আছে তা অবিলম্বে মেরামত করা হবে। সেতুর নিচের অবস্থাও ভাল আছে বলে জানান ইঞ্জিনিয়াররা।’‌ 
এসপি মুকেশ বলেন, ‘‌সেতুর দুই প্রান্তে পুলিস মোতায়েন আছে। সেতুর ওপর ওভারটেক করা নিষেধ। সব সময় নজরদারি চলছে।’‌ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শুধু বহরমপুরের সেতু নয়, জেলায় সব সেতুর অবস্থা কেমন তা দেখে রিপোর্ট পাঠাবে জেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যে কান্দি–বহরমপুর রাজ্য সড়কে দ্বারকা নদীর ওপর রণগ্রামে সেতুর কাজ চলছে।‌‌ সেতু নিয়ে বিভিন্ন মহলে অপপ্রচারও চলছে। সেই অপপ্রচারে কান দিয়ে সাধারণ মানুষ যাতে বিভ্রান্ত না হন, সেদিকেও খেয়াল রাখা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

Back To Top