নিরুপম সাহা, বনগাঁ: রাজ্য সরকারের নাম করে সোশ্যাল মিডিয়ায় মরফিন ভাইরাসের কথা বলে মিথ্যা আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগে ৪ যুবককে গ্রেপ্তার করল বনগঁা থানার পুলিস। ধৃতদের শনিবার বনগঁা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের ২ দিনের পুলিসি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। 
পুলিস সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েকদিন ধরেই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে একটি বার্তা ছড়িয়ে পড়ছিল। সেখানে পশ্চিমবঙ্গ সরকার দ্বারা জনস্বার্থে প্রচারিত বলে উল্লেখ করে প্রচারও চলছিল। যেখানে ডেভিস ডিসুজার নাম করে বলা হচ্ছিল, ইছামতীর মাছে বনগঁায় মরফিন ভাইরাস পৌঁছে গেছে। ইতিমধ্যেই আক্রান্ত কয়েকজনকে বনগঁা মহকুমা হাসপাতালে ভর্তিও করা হয়েছে। এটি এইভাবে চলতে থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যে লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা যাবে। দুর্গাপুরের‌ চিকিৎসক অসীম কুম্ভকার এই রোগের শিকার হয়েছেন। এই অবস্থায় আগামী একমাস কেউ এক কেজি ওজনের বেশি ওজনের মাছ খাবেন না। বাচ্চাদের এর থেকে দূরে রাখবেন। এই রোগের কোনও ওষুধ বের হয়নি। এই রোগ বর্তমানে সারানো অসম্ভব। এই রোগে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে। খবরটি সবাইকে জানানোর জন্য ফরওয়ার্ড করুন।
এমনই মন্তব্য ঘুরে বেড়াচ্ছিল সকলের ফোনের হোয়াটসঅ্যাপে। ব্যবহারকারীদের মাধ্যে এমন বার্তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই বিশেষ করে বনগঁা এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই বার্তা ছড়িয়ে পড়ার ফলে গত কয়েকদিন ধরে বনগঁার বিভিন্ন মাছ বাজারে বড় মাপের মাছ বিক্রি অনেকটাই কমে গেছে।

বনগঁা হাসপাতালের সুপার শঙ্করপ্রসাদ মাহাতোকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, এটি সম্পূর্ণ গুজব। এমন রোগে কেউ আক্রান্ত হয়ে বনগঁা হাসপাতালে ভর্তি হয়নি। মরফিন বলে কোনও ভাইরাসই নেই। মরফিন ওষুধ তৈরির কাজে ব্যবহৃত একটি উপাদান মাত্র। এই ধরনের মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে যারা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
শুক্রবারই বিশ্বজিৎ কুণ্ডু নামে এক ব্যক্তি এই গুজব ছড়ানোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বনগঁা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিস তদন্তে নেমে জানতে পারে, বনগাঁ লোকাল নামে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে প্রথম এই গুজবটি ছড়ানো হয়। এই গ্রুপের অ্যাডমিন অভ্রজিৎ রায় নামে এক যুবক। পেশায় রঙের মিস্ত্রি এই যুবকের বাড়ি বনগাঁর স্টেশন রোডে। কাজের সূত্রে সে শুক্রবার বসিরহাটে ছিল। বনগঁা থানার পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করে। এই মেসেজটি ফরওয়ার্ড‌ করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগে রাতেই বনগঁার স্টেশন রোড এবং সুভাষপল্লী এলাকা থেকে অভি কুণ্ডু, অমিত দত্ত এবং সঞ্জীব বিশ্বাস নামে আরও ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। বনগঁা পুলিসের পাশাপাশি এই ঘটনায় সিআইডিও আলাদাভাবে খোঁজখবর করছে বলে জানা গেছে।

 

 

গুজব ছড়ানোয় ধৃত চারজন ও সেই মেসেজ। ছবি: প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top