রাজীব চক্রবর্তী,দিল্লি: ভাটপাড়ায় অশান্তির পেছনে অর্জুন সিং। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা রিপোর্টে এমনটাই উল্লেখ করা হয়েছে বলে খবর। এই রিপোর্ট পেয়ে নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ব্যারাকপুরের সাংসদকে ডেকে ধমক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে অর্জুন সিং নিজে সে কথা মানতে চাননি।
বিজেপি নেতারা কেউই এই খবরের সত্যতা স্বীকার করেননি। আইবি রিপোর্ট যেহেতু অত্যন্ত গোপনীয়, তাই সরকারি ভাবে তার সত্যতা যাচাইয়েরও অবকাশ নেই। তবে, দলীয় সূত্রের খবর, পুরো বিষয়টিতে অর্জুনের ওপর ক্ষুব্ধ বিজেপি–র কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বিজেপি সূত্র জানাচ্ছে, ভাটপাড়া-‌কাণ্ডে লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে তাঁর কাছে। অর্জুনের জবাবি চিঠির খসড়া আবার নাকি তৈরি করে দিচ্ছেন বিজেপি–র এক প্রাক্তন সাংসদ। 
বুধবার সকালে অর্জুন সিংকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন মোদি। সূত্র জানাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী অর্জুনকে বলেছেন, এসব বন্ধ করতে হবে। দলে থেকে গুন্ডাগিরি চলবে না। বৃহস্পতিবার এ নিয়ে জানতে চাওয়া হলে অর্জুন বলেন, ‘‌ও কিছু না, নিছক আলাপ-‌পরিচয় করতে ডেকে পাঠিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।’‌ এদিকে ঘনিষ্ঠ মহলে অর্জুন বলেছেন, ভাটপাড়ার যে এলাকায় অশান্তি লেগে রয়েছে, সেটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। তিনি নিজে বিষয়টি দেখভাল করছেন। কিন্তু, প্রধানমন্ত্রীর ধমক খেয়ে সরে আসতে চান তিনি। লোকসভা নির্বাচনের আগে থেকেই উত্তপ্ত উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়া। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরেও অশান্তি থামেনি, বরং কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বোমা, গুলি ও খুনোখুনির ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। রিপোর্ট চাওয়া হয়েছিল গোয়েন্দা সংস্থার কাছে। তার ভিত্তিতেই সম্প্রতি একটি রিপোর্ট জমা পড়েছে নর্থ ব্লকে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজেই দলের সর্বভারতীয় সভাপতি। তিনিই বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এনেছেন। 
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রের খবর, গোয়েন্দা রিপোর্টে ভাটপাড়ায় লাগাতার অশান্তিতে বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং ও তাঁর অনুগামীদের জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভাটপাড়ায় বোমা, বন্দুকের জোগান বেড়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতাদের মদতে দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। সব কিছুর পেছনে রয়েছেন দলেরই সাংসদ অর্জুন সিং।‌‌ 
এদিকে অন্য এক প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা মুকুল রায় এদিন সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘‌তৃণমূল জাতীয় দলের মর্যাদা হারিয়েছে। অপেক্ষা করুন, খুব শিগগির রাজ্য দলের মর্যাদাও হারাবে তারা।’‌‌‌
‌এদিন দলের ৪০ জন সাংসদকে প্রাতঃরাশে ডেকেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাংলা থেকে ছিলেন অর্জুন সিং, খগেন মুর্মু, সুভাষ সরকার ও সৌমিত্র খান। দলীয় সাংসদদের দুর্গাপুজোর মাধ্যমে জনসংযোগের নির্দেশ দিয়েছেন মোদি। এছাড়াও বাংলার ৮ সাংসদকে নিয়ে ৪টি দল গড়ে দিয়েছেন মোদি। এরমধ্যে লোকসভার ৭ এবং রাজ্যসভার এক সাংসদকে রাখা হয়েছে। দুর্গাপুজোয় মাঠে নামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সাংসদদের।

জনপ্রিয়

Back To Top