‌‌তুফান মণ্ডল, আরামবাগ: ‘‌দিদিকে বলো’‌ নম্বরে ফোন করার দু’‌সপ্তাহের মধ্যেই মিলে গেল বঁাধ সংস্কারের ছাড়পত্র। বরাদ্দ হল প্রায় দু’‌কোটি টাকা। আর এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুজোর আগে খুশির হাওয়া আরামবাগ পুরসভার দ্বারকেশ্বর নদ তীরবর্তী ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে। এই ওয়ার্ডের কয়েক হাজার বাসিন্দা এই ঘটনাকে মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া পুজোর উপহার হিসেবেই গ্রহণ করছেন।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আরামবাগ পুরসভার এই ওয়ার্ডটি দীর্ঘদিন ধরেই দ্বারকেশ্বর নদের ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত। এই ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যা ৩৩৭৮ জন। প্রতি বছরই অতিবৃষ্টি এবং বন্যার ফলে কিছু কিছু চাষের জমি ও বাস্তুজমি নদগর্ভে চলে যায়। ইতিমধ্যে প্রায় শতাধিক মানুষ এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত। এ ছাড়াও এলাকার একটি প্রাচীন শিবমন্দির নদগর্ভে চলে গেছে। ফলে এখানকার বাসিন্দারা ভাঙন নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। তৃণমূলের এই ওয়ার্ডের সভাপতি আজিজুল হোসেন বলেন, ‘‌প্রশাসনিক স্তরে বিভিন্নভাবে দরবার করেও কোনও কাজ হয়নি। তাই আমি ঠিক করি ‘‌দিদিকে বলো’‌‌তে ফোন করে দেখব। সেই মতো আমি ২৯ আগস্ট সরাসরি ‘‌দিদিকে বলো’‌ নম্বরে ফোন করে এই সমস্যার কথা জানাই। সেই ফোনের সূত্র ধরে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বিষয়টি নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়। খবর পৌঁছয় আরামবাগ সেচ দপ্তরে। আরামবাগ মহকুমা সেচ দপ্তর ও তাদের ঊর্ধ্বতন দপ্তর হরিপাল থেকে আমার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে।’‌ 
অন্যদিকে সেচদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নবান্ন থেকে ওই বঁাধ সংস্কারের নির্দেশ পৌঁছেছে। এর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১ কোটি ৯৬ লক্ষ টাকা। প্রথম পর্যায়ে চঁাদুর হাটপাড়া থেকে চঁাদুর উত্তরপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার নদীবঁাধ সংস্কার করা হবে। এবিষয়ে আরামবাগ সেচ দপ্তরের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার অনিন্দ্য চক্রবর্তী জানান, খুব দ্রুত বঁাধ সংস্কারের কাজ শুরু হবে। তার প্রস্তুতি চলছে। যদিও এলাকা সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় এখন আমন ধান রয়েছে। ফলে এখনই বঁাধ সংস্কার শুরু হলে ওই ধান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। হয়তো সেজন্য ওই ধান ওঠা পর্যন্ত মাস দুয়েক অপেক্ষা করতে হবে। এ বিষয়ে ওয়ার্ডের তৃণমূল সভাপতি আজিজুল হোসেন বলেন, ‘‌এত তাড়াতাড়ি যে কাজ হবে ভাবতে পারিনি। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে আমরা ভীষণ খুশি।’‌

এভাবেই দ্বারকেশ্বর গ্রাস করছে নদ তীরবর্তী আরামবাগের ১৬ নম্বর ওয়ার্ড। ছবি:‌ প্রতিবেদক‌

জনপ্রিয়

Back To Top