তুফান মণ্ডল,আরামবাগ: মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নির্দেশের পর আরামবাগের রামকৃষ্ণ সেতু নিয়ে তুমুল তৎপরতা হুগলি জেলা প্রশাসনে। সরকারিভাবে নোটিস জারি করে গত শুক্রবারই আরামবাগে দ্বারকেশ্বর নদের উপর রামকৃষ্ণ সেতুর ওপর দিয়ে ভারী যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। হুগলি জেলা প্রশাসনের জারি করা ওই নোটিসে জানানো হয়েছে, এই সেতুর সংস্কার শুরু হবে। তাই শুক্রবার থেকে আগামী একমাস এই সেতুর ওপর দিয়ে পণ্যবাহী ভারী যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল। এক্ষেত্রে গোঘাটের খাটুল ও হাজিপুর, আরামবাগের পল্লীশ্রী, হুগলির ডানকুনি এবং পূর্ব বর্ধমানের উচালন এলাকা থেকে পণ্যবাহী লরি অন্য রুটে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে আরামবাগ পূর্ত দপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার নিরঞ্জন ভড় বলেন, ‘‌ছোট যানবাহন ও যাত্রিবাহী বাসগুলিকে ধীরগতিতে সেতু পারাপার করানো হবে। সংস্কারের কাজ খুব দ্রুত গতিতে করা হবে। সম্পূর্ণভাবে সেতুটি মেরামত করা গেলে আগামী ৪–‌৫ বছর যান চলাচলে কোনও অসুবিধা থাকবে না।’‌ উল্লেখ্য, এই রামকৃষ্ণ সেতু ৫৩ বছর আগে তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে সেতুটির বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে। গার্ডওয়াল ভেঙে পড়ছে। স্থানীয় বিধায়ক কৃষ্ণচন্দ্র সাঁতরা ও মানস মজুমদার গত কয়েক বছর ধরে বিষয়টি রাজ্যস্তরে জানিয়েছিলেন। 
এরপর গত ১৩ জুলাই রাজ্য পূর্ত দপ্তর বিকল্প সেতুর প্রয়োজনীয়তা এবং বর্তমান সেতুর অবস্থা সম্পর্কে জানতে চায়। ২৮ আগস্ট এক বিশেষজ্ঞ দল এই সেতু ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকা পরিদর্শনও করে। তখনই সেতুর উপর দিয়ে ভারী যান চলাচলের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারির কথা বলা হয়। এরপর ঘটে যায় কলকাতার মাঝেরহাটের ঘটনা। তাই জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা তড়িঘড়ি এই ভারি যান চলাচল বন্ধ রেখে সেতু সংস্কারের কাজে উদ্যোগী হলেন বলে মনে করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নিরঞ্জন ভড় বলেন, ‘‌বর্তমান সেতুটি নিরাপদ নয়। একটি বিকল্প সেতুর প্রয়োজন আছে। তাই নতুন সেতুর জন্য সমীক্ষা শুরু হয়েছে।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top