তুফান মণ্ডল,আরামবাগ: দু’‌মাসেরও বেশি সময় কেটেছে নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে ও প্রচারে। কখন কোন দিকে সময় কেটে গেছে কিছুই বুঝতে পারেননি। একটানা প্রচারের কাজে সকাল থেকে সন্ধে পর্যন্ত সময় দিয়ে গেছেন। কোনও কোনও দিন বাড়ি পর্যন্ত ফেরা হয়নি। দলের স্বার্থে, মানুষের স্বার্থে ভোরের আলো ফোটার আগেই বেরিয়ে পড়তে হত। আবার যখন বাড়ি ফিরতেন, তখন ছেলেমেয়েরা ঘুমিয়ে পড়ত। তাই একটু অবসর মিলতেই এখন বাড়িতে সময় কাটাচ্ছেন আরামবাগ লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তথা গতবারের সাংসদ অপরূপা পোদ্দার। বুথ ফেরত সমীক্ষা যাই বলুক না কেন, কোনও টেনশন নেই তঁার। নিজের জয় সম্পর্কে একশো ভাগ নিশ্চিত।
অপরূপা পোদ্দারের বাড়ি হুগলির রিষড়ার ২৮ নং গান্ধী রোডে। তবে গত পঁাচ বছর তঁার বেশিরভাগ সময়টাই কেটেছে আরামবাগে। সংসদ খোলা থাকলে দিল্লিতে ছুটে গেছেন আরামবাগের মানুষের কথা বলতে, তঁাদের জন্য কিছু করতে। সেই অপরূপা আরও পঁাচ বছর আরামবাগবাসীর জন্য যে কাজ করার সুযোগ পাবেন, সে বিষয়ে তঁার কোনও সন্দেহই নেই। তঁার কথায়, ‘‌বিভিন্ন সংস্থা তাদের মতো করে বুথ ফেরত সমীক্ষা করেছে। কিন্তু এই দলটির নাম তৃণমূল। নেত্রীর নাম মমতা ব্যানার্জি। তিনি আন্দোলনের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছেছেন, উন্নয়নের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে পৌঁছেছেন। আজ শুধু বাংলাতেই নয়, সারা ভারতের মানুষও মমতা ব্যানার্জির সততা, পরিশ্রম এবং ত্যাগের দিকে তাকিয়ে আছেন। কোনও কিছুই তিনি পাবলিসিটির জন্য করেননি। পুরোটাই তিনি আন্তরিকভাবে করে থাকেন। মানুষের জন্য সারাটা জীবন কাটিয়ে দিচ্ছেন। সেই জায়গায় দঁাড়িয়ে নেত্রীকে সামনে রেখে, নেত্রীর উন্নয়নকে সামনে রেখে আপামর জনগণ জোড়া ফুলে ভোট দিয়েছেন।’‌
এ বিষয়ে তৃণমূল প্রার্থী অপরূপা পোদ্দারের অন্যতম দক্ষ সেনাপতি তথা তৃণমূলের আরামবাগ ব্লক সভাপতি স্বপন নন্দী বলেন, ‘‌কিছু মিডিয়া টাকা খেয়ে সমীক্ষা করেছে। নোট বাতিলের সময় বিজেপি প্রচুর টাকা আত্মসাৎ করেছে। সেই সব টাকা দিয়ে ওইসব মিডিয়ার মাধ্যমে বিজেপি নিজেদের মতো করে সমীক্ষা করেছে। কেউ কেউ দেখিয়েছে আরামবাগ কেন্দ্রে তৃণমূল হারবে। এটা কেউ বিশ্বাস করবে না। এই কেন্দ্রে যদি তৃণমূল হেরে যায়, তা হলে তো সারা বাংলার কোথাও তৃণমূল জিততে পারবে না।’‌ স্বপনবাবুর দাবি, ‘‌এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী অপরূপা পোদ্দার কয়েক লক্ষ ভোটে জিতবেন। কারণ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি আরামবাগবাসীর জন্য রেল থেকে শুরু করে মেডিক্যাল কলেজ, হেলিপ্যাড, সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল, রাস্তাঘাট, পানীয় জল কোনও কিছুরই অভাব রাখেননি!‌’‌
আর অপরূপা বলেন, ‘‌২৩ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করে দেখুন না। যারা সমীক্ষা করেছে, তারা তাদের মনের মতো করে করেছে। কিন্তু মানুষ আর ওপরওলার থেকে বড় সমীক্ষক আর কেউ হতে পারেন না। বিচার তো মানুষই করবেন। গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় বিচারপতি হচ্ছে মানুষ। মানুষের জবাব ২৩ তারিখেই পাওয়া যাবে।’‌ এতটাই আত্মবিশ্বাসী অপরূপা। কারও কোনও অসুবিধা হলে নির্বাচনী প্রচারের মাঝেই যতটা পেরেছেন করেছেন। এখন বিশ্রামে রয়েছেন। মানুষ অনেক বেশি করে তঁাকে কাছে পাচ্ছেন। হরিপাল থেকে এক ব্যক্তি এসেছিলেন। তঁার স্ত্রীর গলব্লাডারে স্টোন হয়েছে, তিনি পিজিতে চিকিৎসা করাবেন। সেখানে একটু বলে দিতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ব্যবস্থা করে দিলেন। উল্লেখ্য, আরামবাগ লোকসভায় ভোট হয়েছে ৬ মে।
ভোট গণনা নিয়ে অপরূপা বললেন, ‘‌এটা পুরোপুরি দলীয় ব্যাপার। ১৯ মে–র  আগেই এজেন্ট ঠিক হয়ে গেছে। প্রথম দিক থেকে যঁারা ছিলেন, বেশিরভাগ তঁারাই থাকবেন।’‌ উল্লেখ্য, আরামবাগ লোকসভা কেন্দ্রের ভোট গণনা হবে আরামবাগ নেতাজি মহাবিদ্যালয়ে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, পোস্টাল ব্যালট গণনার পর ইভিএমে ভোট গণনা হবে। ভোট গণনা কেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে জারি থাকছে ১৪৪ ধারা। এই লোকসভার অন্তর্গত সাতটি বিধানসভার প্রত্যেকটির জন্য ১৩–‌১৬টি টেবিল থাকছে। ২০ থেকে ২২ রাউন্ডে গণনা হবে। ভোটকর্মী থাকবেন ২৭০ জন। পর্যবেক্ষক থাকবেন ৩ জন। তবে যদি কোনও প্রার্থী বা তঁার এজেন্ট পুনর্গণনা চান, তা হলে রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিতভাবে জানাতে হবে। সে ক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। নির্বাচনের জন্য গণনা কেন্দ্রে থাকবে আধা সামরিক বাহিনী।

জনপ্রিয়

Back To Top