‌বুদ্ধদেব দাস, মেদিনীপুর: এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে কেশপুর ব্লকের আনন্দপুর থানা এলাকার রোলাপাট গ্রামে তৃণমূলের ওপর বিজেপি কর্মী–সমর্থকরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ। বাধা দেয় তৃণমূলও। ঘটনায় জখম হয়েছেন ১২ জন। লোকসভা ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক সঙ্ঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল কেশপুর, আনন্দপুর। তৃণমূলের অভিযোগ, বহিরাগতদের এনে একের পর এক গ্রাম দখল করেছে গেরুয়া বাহিনী। সঙ্গ দিয়েছে সিপিএমের একটা অংশ। সেই গেরুয়া দাপট কয়েকমাস পর ফিকে হয়ে যায়। বিজেপি–তে চলে যাওয়া বেশ কিছু তৃণমূল কর্মী–সমর্থক ফের তৃণমূলে ফিরে আসেন। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের উন্নয়নমূলক কাজে শামিল হন তঁারা। এর পর বিজেপি নেতারা বিভিন্ন কায়দায় তঁাদের আবার দলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু কাজ হয়নি।
শনিবার আনন্দপুর থানার রোলাপাটে বেশ কিছু তৃণমূল কর্মী–সমর্থক চায়ের দোকানে বসে কথা বলছিলেন। সেই সময় হঠাৎ ২৫–৩০ জন বিজেপি–র কর্মী–সমর্থক সেখানে হাজির হয়। তারা তৃণমূল কর্মীদের শাসাতে থাকে। দাবি করে, এই এলাকা বিজেপি–র। এখানে তৃণমূলের কোনও আলোচনা করা যাবে না। প্রতিবাদ করেন তৃণমূল কর্মী–সমর্থকরা। তার পরই দু’‌পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়ে যায়। তৃণমূল কর্মী–সমর্থকদের অভিযোগ, তখনই বিজেপি কর্মীরা তঁাদের ওপর বঁাশ, লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। ঘটনায় তৃণমূলের ৪ জন গুরুতর আহত হন। তঁাদের প্রথমে কেশপুর হাসপাতালে ও পরে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশ এসে পরিস্থিতির সামাল দেয়। গোলমাল করার অভিযোগে পুলিশ ৪ বিজেপি কর্মীকে আটক করেছে।
তৃণমূলের কেশপুর ব্লকের সভাপতি সঞ্জয় পান জানান, বিজেপি কর্মীরা প্রথমে তৃণমূল কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। লোকসভা ভোটের পর থেকেই কেশপুর, আনন্দপুরে রাজনৈতিক জমি শক্ত করতে বহিরাগত দুষ্কৃতীদের এনে তৃণমূল কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বিজেপি কর্মীরা। তৃণমূল কর্মী–সমর্থকদের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। পুলিশ, প্রশাসনের ওপর তৃণমূলের আস্থা রয়েছে। পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছে। তবে বিজেপি নেতা আশিস ব্যানার্জি জানান, তৃণমূল কর্মীরাই প্রথমে হামলা চালিয়েছে।

জনপ্রিয়

Back To Top