আজকালের প্রতিবেদন, কাকদ্বীপ, ৩০ মে- কলকাতার পর এবার ঘূর্ণিঝড় আমফানে বিধ্বস্ত সুন্দরবন পুনর্গঠনের কাজে সেনা ব্যবহার শুরু হল। শনিবার দুপুরে সেনাবাহিনীর পদস্থ পাঁচ আধিকারিক নামখানা ব্লক অফিসে আসেন। বিডিও রাজীব আহমেদের সঙ্গে বৈঠক করেন তঁারা। তারপরেই নামখানার সবচেয়ে দুর্গত এলাকা মৌসুনি বেরিয়ে যান। চারদিকে নদী ও সমুদ্র–ঘেরা এই দ্বীপ আমফানের ঝাপটায় কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। দ্বীপের প্রচুর গাছ ভেঙে পড়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। সমুদ্র ও বাঁধের বড় অংশ দিয়ে হুহু করে নোনা জল ঢুকে প্লাবিত হয়েছে। প্রচুর মানুষকে ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় দিতে হয়েছে। সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু দুর্গম এলাকা হওয়ায় সেনা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মৌসুনির পাশাপাশি বকখালি, ফ্রেজারগঞ্জ, সাগরের ঘোড়ামারা দ্বীপ এলাকাও খুবই দুর্গম। এখানে সেনা ব্যবহার করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। এদিন আধিকারিকদের সঙ্গে বিডিও ছিলেন। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পর পুনর্গঠনের কাজ শুরু হবে। এখানে এক কলাম সেনা কাজ করবে বলে সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে। রবিবার থেকে পুরোদমে পুনর্গঠনের কাজ করবে সেনা।
গত সপ্তাহে কাকদ্বীপ প্রশাসনিক ভবনে আমফানের ত্রাণ ও পুনর্গঠন নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সেদিনের বৈঠক থেকে জরুরি ভিত্তিতে কিছু নির্দেশ দিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সেইমতো পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে দুর্গত এলাকায়। এদিন কাকদ্বীপ, নামখানা, পাথরপ্রতিমা এলাকার মোড়ে মোড়ে পানীয় জল নেওয়ার ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে। ট্যাঙ্কের মাধ্যমে জল দেওয়া হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে এই জল পৌঁছে যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে পূর্ত ও সেচ দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব নবীন প্রকাশ দুর্গত এলাকাগুলি ঘুরে দেখছেন। সাগর, নামখানা, কাকদ্বীপ, পাথরপ্রতিমার বিধ্বস্ত এলাকাগুলি নদীপথে ঘুরে দেখেন তিনি। জেলাশাসক পি উলগানাথনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছেন নবীন প্রকাশ। প্রতিদিন বিকেলে কাজের শেষে ভিডিও কনফারেন্সে কাজের পর্যালোচনা চলছে। পাশাপাশি পরবর্তী দিনের কাজের নকশা তৈরি হচ্ছে। এদিন রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন নিগম লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে বৈঠক করেন জেলা শাসক পি উলগানাথন। কাকদ্বীপ, পাথরপ্রতিমা, নামখানা এলাকার হাসপাতাল, প্রশাসনিক ভবনে বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক হয়েছে। সুন্দরবন–সহ জেলার বহু অংশ এখনও বিদ্যুৎহীন। দ্রুত বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন জেলাশাসক। টানা ১১ দিন বিদ্যুৎ না থাকায় বয়স্ক ও শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে অনেক এলাকায়। 
অন্যদিকে আমফানে ক্ষতিপূরণের টাকা ঢুকতে শুরু করেছে দুর্গত মানুষদের অ্যাকাউন্টে। এদিন রামগঙ্গা, নামখানা, কাকদ্বীপের একাধিক বাসিন্দার অ্যাকাউন্টে ২০ হাজার টাকা ঢুকেছে। বাড়ির ছাউনি উড়ে গেলে এককালীন ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সরাসরি সেই টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাওয়ায় দুর্গত মানুষেরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। ওই টাকায় বাড়ির ছাউনিটা সারিয়ে নেবেন অনেকেই। এদিন রামগঙ্গার বধূ মালতী জানা বলেন, ‘ঝড়ে আমাদের বাড়ির অ্যাসবে‌স্টসের ছাউনি উড়ে গিয়েছিল। কিন্তু টাকা না থাকায় সারাতে পারিনি। তার্পোলিন ছেয়ে কোনওরকমে ছিলাম। গতকাল পঞ্চায়েতে আবেদন করেছিলাম। আজ অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে। এবার বাড়ির ছাউনিটা আবার দিতে পারব।’

জেলার আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলছেন সেনার অফিসাররা। ছবি:‌ গৌতম মণ্ডল
 

জনপ্রিয়

Back To Top