নিরুপম সাহা, বাগদা, ২৮ মে- প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত মানুষের জন্য রাজ্য সরকার ত্রিপলের ব্যবস্থা করলেও বিজেপি পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েত সেই ত্রিপল বিলি করছিল না। এই পরিস্থিতিতে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল বিপন্ন মানুষের। ত্রিপলের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে থাকার পর অবশেষে দুর্গতরা নিজেরাই পঞ্চায়েতের গুদাম থেকে ত্রিপল বের করে নিয়ে গেলেন। এই ঘটনায় উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা ব্লকের সিন্দ্রানী 
গ্রাম পঞ্চায়েতের ব্যর্থতাকেই দায়ী করেছেন এলাকার মানু্ষ। পঞ্চায়েতের এহেন দায়িত্বজ্ঞানহীনতার ঘটনায় ক্ষুব্ধ ব্লক প্রশাসনও।
আমফানের জেরে লন্ডভন্ড হয় রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা। বাগদা ব্লকের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়ে। প্রচুর মানুষের বাড়ির চালা উড়ে যায়। ফলে অনেক মানুষেরই খোলা আকাশের নিচে থাকার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের কথা মাথায় রেখে ঝড়ের পরদিনই রাজ্য সরকারের নির্দেশে ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাগদা ব্লকের সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েতকেই প্রথম পর্যায়ে ২০০টি করে ত্রিপল দেওয়া হয়। পরে প্রত্যেক গ্রাম পঞ্চায়েতকে নতুনভাবে আরও ৫০০টি করে ত্রিপল দেওয়া হয়। এর মধ্যে সিন্দ্রানী গ্রাম পঞ্চায়েতও রয়েছে। সেই সময়েই ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানদের বারবার বলে দেওয়া হয়, তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের অগ্রাধিকার দিয়ে যেন দ্রুত এই ত্রিপল বিলির ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু সেই নির্দেশ পাওয়ার পরও বাগদা ব্লকের অন্যান্য গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ দ্রুততার সঙ্গে ত্রিপল বিলির কাজ শেষ করলেও বিজেপি পরিচালিত সিন্দ্রানী গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ সেই কাজ করেননি। অভিযোগ, দুর্গতদের মধ্যে ত্রিপল বিলি না করে সেই ত্রিপল পঞ্চায়েতের গুদামে মজুত করে রেখে দেওয়া হয়। সেই ঝড়ের ক্ষত সারতে না সারতেই বুধবার ফের কালবৈশাখীর ঝড়ে নতুন করে লন্ডভন্ড হয় ওই এলাকা। ফলে আরও বেশি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এলাকার মানুষ। এই পরিস্থিতিতে ত্রিপল পাওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার ভোর থেকে পঞ্চায়েত অফিসের সামনে লাইন দেন গ্রামবাসীরা। বেলা সাড়ে ১১টা বেজে গেলেও ত্রিপল বিলির কোনও ব্যবস্থা না হওয়ায় ধৈর্যের বাধ ভাঙে তঁাদের। অভিযোগ, এই সময় লাইনে অপেক্ষারত গ্রামবাসীদের একাংশ পঞ্চায়েতের গুদাম থেকে নিজেরাই ইচ্ছেমতো ত্রিপল নিয়ে নেন। যদিও এর পরেও কিছু মানুষ ত্রিপলের জন্য লাইনে অপেক্ষা করতে থাকেন। পরে পঞ্চায়েতের অন্য সদস্যদের উপস্থিতিতে তাঁদের মধ্যে অধিকাংশকেই ত্রিপল দেওযা হয়। বাকিদের নামের তালিকা তৈরি করে রাখা হয়। 
এ ব্যাপারে পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য সৌমেন ঘোষ বলেন, ‘‌ত্রিপল বিলির ব্যাপারে প্রধানের কোনও উদ্যোগ না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীরা নিজেদের ধৈর্য ধরে রাখতে পারেননি।’‌ বাগদার বিডিও জ্যোতিপ্রকাশ হালদার বলেন, ‘‌ব্লকের অন্য পঞ্চায়েতগুলি সময়মতো সরকারি ত্রিপল ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিলি করার কাজ সেরে ফেললেও সিন্দ্রানী পঞ্চায়েত সেই কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে। আর সেই কারণেই এদিন এমন একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।’‌ যদিও পঞ্চায়েত প্রধান লতিকা মণ্ডল বলেন, ‘‌ত্রিপল কাদের মধ্যে বিলি করা হবে, সে ব্যাপারে এদিন পঞ্চায়েতে বৈঠক করা হচ্ছিল। তার মধ্যেই কিছু গ্রামবাসী পঞ্চায়েত থেকে প্রায় ৫০০ ত্রিপল লুঠ করে নিয়ে যান।’‌ এই মর্মে বাগদা থানায় তিনি একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন।

পঞ্চায়েত অফিস থেকে নিজেরাই ত্রিপল বের করে নিয়ে যাচ্ছেন গ্রামবাসীরা। ছবি:‌ প্রতিবেদক‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top