নিরুপম সাহা, অশোকনগর: মিথ্যা তথ্য জমা দিয়ে আমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় নাম তুলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠল দুই সিপিএম কর্মীর বিরুদ্ধে। উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর–কল্যাণগড় পুরসভার এই ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ওই দুই সিপিএম কর্মী অশোকনগর পুরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের সিপিএম কাউন্সিলর স্বপ্না নন্দীর আত্মীয় বলে জানা গেছে। অশোকনগর–‌কল্যাণগড় পুরসভার তৃণমূল প্রধান প্রবোধচন্দ্র সরকার অভিযোগ করেছেন, পুরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সিপিএম কর্মী তরুণ দাস এবং মৌসুমি দাসের দোতলা বাড়ি। আমফানে সেভাবে তাঁদের কোনও ক্ষতি না হলেও তাঁরা সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণের টাকা পাওয়ার জন্য সরকারি দপ্তরে আবেদন জানান। সেই অনুযায়ী তাঁরা দু’‌জনেই ক্ষতিপূরণ বাবদ কুড়ি হাজার টাকা করে পেয়েও যান। পরে তদন্ত করে আসল সত্য প্রকাশ্যে এসেছে। এই দুই ব্যক্তি ওই এলাকার সিপিএম কাউন্সিলর স্বপ্না নন্দীর আত্মীয় বলে দাবি করেছেন পুরপ্রধান। যদিও এ ব্যাপারে স্বপ্না নন্দী জানান, তরুণ দাস এবং মৌসুমি দাস তাঁর আত্মীয় নন। আর তাদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ব্যাপারেও তাঁর কিছু জানা নেই। আবেদনকারীরা নিজেরাই নিজেদের মোবাইলে ছবি তুলে যে যার মতো করে আবেদন করেছিলেন। শুধু এই ঘটনাই নয়, পুরপ্রধানের আরও অভিযোগ, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবিত্রী দেবনাথ এবং ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের অখিলচন্দ্র শীল মিথ্যা তথ্য জমা দিয়ে ক্ষতিপূরণের সম্পূর্ণ টাকা পেয়েছেন। তাঁরা দু’‌জন বিজেপি কর্মী বলে এলাকায় পরিচিত। পুরপ্রধান আরও জানান, খুব অল্প সময়ের মধ্যে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ থাকায় কোনও আবেদনপত্রই যাচাই করে দেখার সুযোগ ছিল না। ফলে এই রকম অনেকেই মিথ্যা তথ্য দিয়ে আবেদনপত্র জমা করে সরকারি ক্ষতিপূরণের টাকা নিয়েছেন। এ ব্যাপারে এলাকায় আরও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই দুর্নীতির ব্যাপারে সোচ্চার হয়েছেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top