‌চন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, কাটোয়া: ঘূর্ণিঝড় আমফানে ক্ষতি না হলেও ক্ষতিপূরণ পেয়ে গিয়েছেন পাকা বাড়ির মালিক। কাটোয়া পুরসভা এলাকায় এমন অভিযোগ ওঠার পরই সতর্ক পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন। ক্ষতিপূরণের তালিকা ধরে ধরে ব্লক ও পুরসভা এলাকায় সরেজমিন নজরদারি শুরু করেছেন ত্রাণ ও বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের আধিকারিকরা। এলাকায় গিয়ে সমীক্ষা করছেন ওই তাঁরা। টাকা ফেরাতে মহকুমা কার্যালয়ে গিয়ে ‘টিআর ৭’ ফর্মে চালান কেটে ট্রেজারিতে জমা করতে হবে। ইতিমধ্যেই কাটোয়া শহরের কয়েকজন বাসিন্দা তাঁদের অ্যাকাউন্টে ‘ভুল করে ক্ষতিপূরণের টাকা চলে যাওয়ায়’, টাকা ফেরাতে আবেদন করেছেন। জেলা তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির শীর্ষে থাকা দেবু টুডুর সাফ কথা, ‘মমতা ব্যানার্জির কড়া নির্দেশ প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা যেন সরকারি সাহায্য থেকে বঞ্চিত না হন। এই নির্দেশ যিনি অমান্য করবেন, তিনি দলের যত বড় নেতাই হন, দল তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। সেই প্রক্রিয়া শুরুও হয়ে গিয়েছে।’  কাটোয়া পুর এলাকায় যে তালিকা তৈরি হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে ২০ জনের জন্য একটাই মোবাইল নম্বর ব্যবহার হয়েছে। অন্য একটি মোবাইল নম্বর রয়েছে আরও ১০ জনের। মোট ৬৩ জনের তালিকা তৈরি হয়েছে। সবমিলিয়ে রয়েছে ৮টি মোবাইল নম্বর। মোবাইল নম্বরগুলি খতিয়ে দেখা যাচ্ছে, ৮টি মোবাইলের মালিকই পুরসভার সঙ্গে কোনও–না–কোনওভাবে জড়িয়ে। যার মোবাইল নম্বর ২০ জন ক্ষতিগ্রস্তর নামের পাশে দেওয়া হয়েছে, সেই চন্দন মাঝি পুরসভার ত্রাণ ও দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের কর্মী। এ বিষয়ে পুরপ্রশাসক রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জি জানান, ‘সংশ্লিষ্ট আবেদনকারী ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন কিনা, সেটাই প্রধান বিচার্য। একদিনের মধ্যে তালিকা তৈরি করতে হয়েছিল। তাই আবেদনকারীদের আবেদন মহকুমা প্রশাসনের কাছে পাঠানোর সময় ওই পুরকর্মী হয়তো নিজের নম্বর দিয়ে দিয়েছিলেন।’ কাটোয়ার মহকুমাশাসক প্রশান্তরাজ শুক্ল বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top