অম্লানজ্যোতি ঘোষ, আলিপুরদুয়ার: জম্মু–‌কাশ্মীর সীমান্তে শহিদ হলেন উত্তরবঙ্গের জওয়ান রাজীব থাপা। শুক্রবার ভোরবেলা জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরি জেলার নওশেরা সেক্টরে পাক বাহিনীর হামলায় মৃত্যু হল গোর্খা রাইফেলের নায়েক রাজীবের (‌৩৪)‌। তাঁর বাড়ি আলিপুরদুয়ার জেলার কালচিনি ব্লকের মেচপাড়ায়। পাকিস্তানের দিক থেকে প্রথম গুলি ছোঁড়ার ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মাথায় গুলির আঘাত লাগে রাজীবের। সেনাবাহিনীর তরফে সকালেই তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশ করা হয়। খবরটি তাঁর বাড়িতে এসে পৌঁছতেই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন তাঁর বাবা কুমার থাপা। মাত্র এক বছর আগেই মেচপাড়া চা–বাগানের শ্রমিকের কাজ থেকে অবসর নিয়েছেন তিনি। 
জানা গেছে, মাত্র দু’‌বছর আগেই সান্তলাবাড়ির খুশবু ছেত্রীকে বিয়ে করেন রাজীব। আট মাসের একটি মেয়ে ছিল।  দু’‌মাস আগেই ছুটিতে এসে ফের কাশ্মীর চলে যান। মেয়ের অন্নপ্রাশনেও থাকতে পারেননি। এদিকে, মৃত্যুর খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই গোটা কালচিনি ব্লক জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। বাবা অবসর নিতেই গোটা পরিবারের দায়িত্ব স্বাভাবিক নিয়মেই রাজীবের ওপর এসে পড়েছিল। এক দিদির বিয়ে হলেও তাঁর আরও দুই বোন রয়েছেন বাড়িতে।

মা রিনা থাপাকে বিকেল পর্যন্ত ছেলের মৃত্যুসংবাদ জানাতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা। জানা গেছে, তিনি কিছুটা অসুস্থ। শহিদ পরিবারের অন্যতম শুভাকাঙ্ক্ষী প্রদীপ লামা জানান, সহজ সরল শান্ত স্বভাবের রাজীব সকলের প্রিয় ছিলেন। প্রায় ১৫ বছর চাকরি করছিলেন সেনাতে। সদ্য প্রমোশন পেয়ে নায়েক পদমর্যাদা পান। 
এদিকে, ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধ বা তারও আগের সময় থেকে কালচিনি ব্লক থেকে দেশের অনেক বীর সন্তানের কথা উঠে এসেছে। ২০০৮ সালে মেচপাড়া চা–বাগানের ঠিক পাশের ভাটপাড়া চা–বাগানের বীর সেনাকর্মী অজয় লামা পাকিস্তানি সেনার গুলিতে শহিদ হন। ২০১৮ সালে মেচপাড়া চা–বাগানের বিএসএফের জওয়ান সঞ্চয় তিরকি মণিপুরে কর্তব্যরত অবস্থায় বোমা বিস্ফোরণে শহিদ হন। এদিন সকালেই মৃত শহিদের বাড়িতে যান জেলা পরিষদের মেন্টর মোহন শর্মা। তিনি বলেন, দেশমাতার গর্ব আমাদের রাজীব থাপা। তাঁর পরিবারের পাশে সবসময়, সবরকমভাবে থাকব আমরা। এদিকে, খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই সকাল থেকেই থাপা পরিবারে কাতারে কাতারে মানুষ সমবেদনা জানাতে আসেন। শহিদ জওয়ানের দেহ শনিবার দুপুরের পর মেচপাড়াতে পৌঁছনোর কথা।

 

 

রাজীব থাপার বাড়ির সামনে প্রতিবেশীদের ভিড়। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top