প্রদীপ দে, বহরমপুর: বিজেপি–কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন লোকসভায় কংগ্রেস নেতা সাংসদ অধীর চৌধুরি। তাঁর কথায়, ‘‌বিজেপি মুখে যা বলে, আসলে কাজে তা করে না। বিজেপি–র তাবড় নেতারা বলে থাকেন, প্রধানমন্ত্রী নাকি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে সেই প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না। কেননা নানা দুর্নীতিতে জড়িত নেতা–মন্ত্রীদের তারা দলে নিচ্ছে।’‌ 
সদ্য বিজেপি–তে যোগ দিয়েছেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চ্যাটার্জি। তা নিয়ে এদিন অধীর বলেন, ‘‌সারদা, নারদা, রোজভ্যালি এসব নিয়ে বিজেপিই তো উঠে পড়ে লেগেছিল। সিবিআই তদন্ত চলছে। আর ওই সব ক্ষেত্রে তৃণমূলের যে সব মন্ত্রী–নেতা জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ, বিজেপি তঁাদেরই সাদরে বরণ করে দলে নিচ্ছে। আগেও নেওয়া হয়েছে। তা হলে বিজেপি দুর্নীতির কথা বলে কোন মুখে? এবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা বন্ধ করুক তারা। আমাদের তো আশঙ্কা, এরপর নারদা–সারদায় যুক্ত তৃণমূলের সব নেতা, মন্ত্রীরা বিজেপি–তে ঢুকে যাবেন। সিবিআইয়ের তদন্তও চলবে ঢিমেতালে। তৃণমূল যখন ক্ষমতায় এসেছিল, তখন সিপিএমের চোর, ডাকাতরা দলে দলে তৃণমূলে ঢুকে পড়েছিল। এখন তো েসই একই অবস্থা হয়েছে বিজেপি–র।’‌
এদিন প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর জন্মদিনে জেলা কংগ্রেস রাজনৈতিক কর্মিসম্মেলন করে। সেখানে অধীর বলেন, ‘‌দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছে কংগ্রেস। সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে চলা কংগ্রেসের কাজ। বিজেপি–র কাজ হল ধর্মের দোহাই দিয়ে দেশটাকে ভাগ করা। আর আজকে যে ডিজিটাল ইন্ডিয়া হয়েছে, তার সূত্রপাত তো রাজীব গান্ধীর হাত দিয়ে।‘‌ তবে এদিন কংগ্রেসের সম্মেলনে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
কাশ্মীরকে ভেঙে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করা নিয়ে অধীর ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘‌কলমের একটা খোঁচায় একটা রাজ্য মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেল। তার বদলে দু–দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করা হল। ৩৭০ ধারা তুলে দেওয়া নিয়ে বিতর্ক চলতে পারত। বিজেপি সে সবের ধার না ধরে একেবারে বিলোপ করে দিল। কিন্তু যঁাদের জন্য করা, সেই কাশ্মীরের মানুষের সঙ্গে কথাই বলল না। তঁাদের ইচ্ছে, তঁাদের দাবি কোনও কিছুকেই গুরুত্ব, সম্মান দিল না কেন্দ্রীয় সরকার।’‌
 

জনপ্রিয়

Back To Top