গৌতম চক্রবর্তী: নতুন আধার কার্ড বা আধার কার্ডে ভুল সংশোধনের জন্য বিকেল থেকে রাতভর লাইন ডাকঘরের বাইরে। রাস্তার পাশে আশ্রয় নিচ্ছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার দূর–দূরান্তের মানুষ। রাত জাগছেন মহিলারাও। রাতের অন্ধকারে রাস্তার পাশে মহিলাদের রাত কাটানো নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। তাঁদের জন্য নেই কোনও নিরাপত্তার ব্যবস্থা। এছাড়াও অভিযোগ, ডাকঘরে সকাল ১০টায় কাজ শুরু হলেও, মাত্র ২৫–৩০ জনের বেশি আধার কার্ডের কাজ হচ্ছে না। রাত জেগে লাইনে দাঁড়ালেও, বাকিদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আধার কার্ডের জন্য টাকা নেওয়া হলেও, দেওয়া হচ্ছে না কোনও রসিদ। দিনের পর দিন মানুষের এই ভোগান্তিতে নীরব দর্শক ডাকঘর কর্তৃপক্ষ।
লাইনে দাঁড়ানো মানুষগুলির আরও অভিযোগ, ডাকঘরের ভিতরে জায়গা থাকা সত্ত্বেও মহিলাদের রাস্তায় রাত কাটাতে হচ্ছে। বিকেল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা রুমা দত্তের অভিযোগ, তাঁর আধার কার্ড ঠিক এলেও, স্বামীর ও মেয়ের আধার কার্ডে নামের বানানে ভুল রয়েছে। তাই সংশোধনের জন্য বিকেল থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছেন কুলতলির বাসিন্দা রুমাদেবী। সারারাত মশার কামড় সহ্য করে রাস্তার পাশে রাত কাটাচ্ছেন। রাতে ডাকঘরের গেট বন্ধ করে রাখা হয়। তাই আতঙ্কের মধ্যে রাত জেগে সকালের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। ৫০ টাকা করে নেওয়া হলেও, কোনও রসিদ দেওয়া হয় না বলেও তাঁর অভিযোগ। যদিও ডাকঘরের ভারপ্রাপ্ত এক আধিকারিকের মতে, রাত জেগে লাইন দেওয়ার কথা তাঁদের তরফ থেকে বলা হয়নি। অন্য জায়গাতেও আধার কার্ডের কাজ হচ্ছে। সেখান থেকেও করানো যেতে পারে। তা ছাড়া ডাকঘরে ২৫–৩০টির বেশি আধার কার্ডের কাজ করা যায় না। তাঁদের কোনও রসিদ দেওয়ার নিয়মও নেই। বারুইপুর পুলিস জেলা সুপার রশিদ মুনির খান বিষয়টা জানার পর তিনি নিরাপত্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

জনপ্রিয়

Back To Top