মিল্টন সেন, হুগলি: বেড়াতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মৃত্যু মা ও মেয়ের। শোকের ছায়া চুঁচুড়া থানা এলাকার ৭৮, ফার্মসাইড রোডের বাড়িতে। দার্জিলিং, কালিম্পং বেড়িয়ে বাড়ি ফেরার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিস্তা ক্যানেলে পড়ে গাড়ি। সেখান থেকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যু হয় জয়শ্রী চ্যাটার্জি (৬৮) ও তাঁর মেয়ে শ্রীপর্ণা মুখার্জি (৪৭)–র। ঘটনায় গুরুতর আহত প্রসূনা চ্যাটার্জি (২৩) এবং তাঁর ২ বছরের ছেলে হিয়নের চিকিৎসা চলছে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর পাহাড়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন ওঁরা। দার্জিলিং, কালিম্পং বেড়িয়ে সোমবার নিউ জলপাইগুড়ি ফিরছিলেন। মঙ্গলবার তাঁদের চুঁচুড়ার বাড়িতে ফিরে আসার কথা ছিল। তাই সোমবার সকাল সকাল কালিম্পং থেকে একটি মারুতি গাড়ি করে নিউ জলপাইগুড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। গাড়ির সামনে চালকের পাশের আসনে হিয়নকে নিয়ে বসেছিলেন চ্যাটার্জিবাড়ির বউমা প্রসূনাদেবী। গাড়ির পেছনের আসনে ছিলেন তাঁর শাশুড়ি জয়শ্রীদেবী ও ননদ শ্রীপর্ণাদেবী। ফেরার পথে আমবাড়ির দিক থেকে ফেরার সময় শিলিগুড়ির গাজলডোবার কাছে পেছন থেকে একটি গাড়ি ওই মারুতিকে ধাক্কা মারে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মারুতি গাড়িটি তিস্তা ক্যানেলে পড়ে তলিয়ে যেতে থাকে। চালকের উদ্যোগে কোনওরকমে রক্ষা পেয়েছেন প্রসূনাদেবী ও তাঁর সন্তান। ক্ষণিকের মধ্যেই ক্যানেলের জলে তলিয়ে যায় গাড়িটি। স্থানীয় বাসিন্দা এবং মিলনপল্লী ফাঁড়ির পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে। আমবাড়ি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানেই মৃত্যু হয় দু’‌জনের। প্রসূনাদেবীর স্বামী অয়ন চ্যাটার্জি পেশায় ইঞ্জিনিয়ার। কর্মসূত্রে ছত্তিশগড়ের রায়পুরে থাকেন। কাজের চাপে বেড়াতে যাওয়া হয়ে ওঠেনি। অয়নবাবু জানিয়েছেন, সোমবার বেলা ১২টা নাগাদ স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়। তখন সবই ঠিক ছিল। মঙ্গলবার সকালে ওই হাসপাতালে পৌঁছন তিনি। মৃত দু’‌জনের দেহ ময়নাতদন্তের পর সেখানেই এদিন দাহ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা কবি অরুণ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, শ্রীপর্ণাদেবী বাড়িতে স্কুলপড়ুয়াদের পড়াতেন। মা–মেয়ে দু’‌জনেই শিক্ষিত, রুচিপূর্ণ, ভাল মানুষ ছিলেন।

জনপ্রিয়

Back To Top