আজকালের প্রতিবেদন- সরকারি প্রচার ও সক্রিয়তা সত্ত্বেও দুর্ঘটনার সংখ্যা কিছুতেই কমানো যাচ্ছে না। বাংলা নতুন বছরের প্রথম ২ দিনে তারই প্রমাণ পাওয়া গেল। রবিবার সন্ধে থেকে সোমবার পর্যন্ত তিন জেলায় পঁাচটি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন পঁাচজন। আহত আরও ৬ জন।
গাজনের মেলা দেখে বাড়ি ফেরার পথে লরির সঙ্গে মুখোমুখি সঙ্ঘর্ষে মৃত্যু হয় ২ মোটর বাইক আরোহীর। জখম হয়েছেন একজন। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে দেওয়ানদিঘি থানার দেওয়ানদিঘিতে বর্ধমান–কাটোয়া রোডের ওপর। মৃতরা হলেন শুকলাল মুর্মু (২২) ও রামলাল মুর্মু (২৩)। তাঁদের বাড়ি মেমারি থানার আহিরাগ্রামে। শুকলাল রাজস্থানের রাজকোটে কাজ করতেন। রামলাল বিদ্যুতের মিস্ত্রি ছিলেন। জখম জিতেন মুর্মু ও রামলাল মুর্মু দুই ভাই।
এর পরের দুর্ঘটনাটির কবলে পড়ে আসানসোল থেকে চিত্তরঞ্জনগামী একটি ইন্টারসিটি বাস৷ ঘটনায় আহত হন চারজন৷ সোমবার সকালে আসানসোল থেকে ‘‌কী আশ্চর্য’‌ নামে একটি ইন্টারসিটি চিত্তরঞ্জনের উদ্দেশে রওনা হয়। বাসটি সালানপুরের ফতেপুর মোড়ের কাছে পৌছলে উল্টো দিক থেকে আসা একটি বাইকের মুখোমুখি পড়ে যায়। সঙ্ঘর্ষ এড়াতে ব্রেক কষলেও বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং রাস্তার ধারে একটি গাছে গিয়ে ধাক্কা মেরে উল্টে যায়৷ এই ঘটনায়  চারজন যাত্রী গুরুতর আহত হন৷ সালানপুর থানার পুলিসও এসে ক্রেন দিয়ে বাসটি সোজা করে আহতদের উদ্ধার করে। আহতদের চিত্তরঞ্জনের কস্তুরবা গান্ধী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তঁারা চিকিৎসাধীন।
এ ছাড়া, সোমবার বিকেল চারটেয় বিষ্ণুপুর থানার মাকড়ার মোড়ে বেপরোয়া বালি লরির ধাক্কায় এক নবম শ্রেণির ছাত্রের মৃত্যু হলে সেখানে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে। মৃত ছাত্রের নাম আকাশ রায় (‌১৫)‌। সে অযোধ্যা হাইস্কুলে পড়ত। বাড়ি দামোদরপুর গ্রামে। এদিনই স্কুল থেকে নতুন সাইকেল দেওয়া হয় পড়ুয়াদের। সেই সাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে পিছন দিক থেকে ধাক্কা মারে একটি বেপরোয়া লরি। এরপরই সেখানে জড়ো হয় কয়েকশো মানুষ। তারা মৃতদেহ রাস্তায় ফেলে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। পুলিস অবরোধ তুলতে এলে খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায়। অভিযোগ, জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিস লাঠি চালায়।
পাশাপাশি, সোমবার বঁাকুড়ায় দু’‌টি দুর্ঘটনায় দু’‌জনের মৃত্যু হয়েছে, একজন আহত হয়েছেন। প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে এদিন সকালে বাঁকুড়া সদর থানা এলাকার বিকনা গ্রামের কাছে। প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়েছিলেন বিকনা গ্রামেরই সবিতা রায় (‌৪৫)‌। পথে একটি পাথর বোঝাই ডাম্পার তাঁকে পিছন থেকে ধাক্কা মারে। তিনি ছিটকে পড়েন। তাঁকে বাঁকুড়া মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। 
এরপর সকাল ৯টা নাগাদ ইন্দপুর থেকে স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড যাওয়ার রাস্তায় ট্র‌্যাক্টরের ধাক্কায় এক প্রৌঢ়ের মৃত্যু হয়। তাঁর নাম যজ্ঞেশ্বর বাউরি (‌৫২)‌। তাঁর বাড়ি ইন্দপুর থানার কৃষ্ণনগর গ্রামে। তিনি পাশের গ্রামের যুবক বিশু বাউরির সাইকেলে চেপে যাচ্ছিলেন। হঠাৎই সাইকেল থেকে তিনি পড়ে যান। তখনই পিছন দিক থেকে আসা ট্র‌্যাক্টরটি তাঁদের ধাক্কা দেয়। আহত দু’‌জনকেই ইন্দপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা যজ্ঞেশ্বরকে মৃত বলে ঘোষণা করেন ও বিশুর আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাঁকে বাঁকুড়া মেডিক্যালে স্থানান্তরিত করা হয়। স্থানীয়রা ট্র‌্যাক্টরের চালককে ধরে পুলিসের হাতে তুলে দেয়।

চিত্তরঞ্জনের কাছে দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসটিকে সরাচ্ছে সালানপুর থানার পুলিস। ছবি:‌ দেবব্রত ঘোষ

জনপ্রিয়

Back To Top