অমিতকুমার ঘোষ, কৃষ্ণনগর, ১৩ আগস্ট- স্মারকলিপি দিতে যাওয়া তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্যদের কলেজে ঢুকতেই দিল না এবিভিপি। রীতিমতো কলেজের গেটে আগলে দাঁড়িয়ে থাকে সংগঠনের নেতারা। ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় মাজদিয়া সুধীরঞ্জন লাহিড়ী কলেজে। 
শেষপর্যন্ত কলেজ কর্তৃপক্ষ এক কর্মীকে পাঠিয়ে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (‌টিএমসিপি)–এর‌ বক্তব্য লিপিবদ্ধ করে নিয়ে আসেন। এবিভিপি–র এই আচরণের প্রতিবাদে টিএমসিপি কলেজের ফটকের পাশেই এক প্রতিবাদসভাও করে। 
১৭ আগস্ট এই কলেজে নবীনবরণ উৎসব হওয়ার কথা। কলেজ কর্তৃপক্ষের এই অনুষ্ঠান করার কথা। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানে এবিভিপি নিজেদের কর্তৃত্ব কায়েম করতে চাইছে। এমনকী তাদের ব্যানারও সেখানে থাকবে এ কথা কলেজে প্রচার হয়ে যায়। এর প্রতিবাদেই টিএমসিপি অধ্যক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিতে চায়। টিএমসিপি নেতৃত্বকে আটকাতে কলেজের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে দেয় বিজেপি–র ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (‌এবিভিপি)‌–এর নেতারা। তখনই সেখানে ধুন্ধুমার কাণ্ড বেধে যায়। দু’‌পক্ষই স্লোগান দিতে থাকে। তাতে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এলাকায় পুলিশ ছিলই। পুলিশ দু’‌পক্ষের মধ্যে দাঁড়িয়ে যায়। ফলে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। শেষ পর্যন্ত টিএমসিপি নেতৃবৃন্দ কলেজে ঢুকতে পারেননি। 
টিএমসিপি–র জেলা সভাপতি সৌরিক মুখার্জি বলেন, ‘‌কলেজের নবীনবরণ উৎসব কলেজ কর্তৃপক্ষের করার কথা। সেখানে এবিভিপি নিজেদের কর্তৃত্ব কায়েম করতে চাইছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আঁতাতেই এই ঘটনা ঘটতে চলেছে। তাই আমরা স্মারকলিপি দিতে গিয়েছিলাম। সেখানেও এবিভিপি বাধা দিয়েছে। আমরা পরে প্রতিবাদসভা করেছি।’‌ এবিভিপি–র জেলা সভাপতি আশিস বিশ্বাস বলেন, ‘‌নবীনবরণ কলেজ কর্তৃপক্ষ করছেন, আমরা করছি না। নবীনবরণ বানচাল করার চেষ্টা করছে টিএমসিপি। টিএমসিপি–র বহিরাগত নেতারা এদিন স্মারকলিপি দিতে আসছিলেন। তাই আমরা কলেজের গেট আটকে দিয়েছি।’ 

কলেজের গেট আগলে এবিভিপি–র নেতারা। ছবি:‌ প্রতিবেদক‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top