পবিত্র মোহান্ত, বালুরঘাট: ‘‌আগে যারা ছিল মার্কসবাদ, পরে তারাই হল হার্মাদ, বিজেপি–‌র হাওয়ায় সিপিএম ছেড়ে তারা এখন উন্মাদ, আর ২০১৯–‌এ তারাই হবে বরবাদ’‌। মঙ্গলবার এভাবেই আগামী লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি–কে দেশছাড়া করার ডাক দিলেন যুব তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক ব্যানার্জি। তিনি বলেন, ‘‌২০১৯–‌এর লোকসভা নির্বাচনের পরেই প্রমাণ হবে যে, মমতা ব্যানার্জি মানুষের অন্তরে কতটা রয়েছেন।’‌ 
যুব তৃণমূলের ডাকে মঙ্গলবার বালুরঘাট হাই স্কুল মাঠে এক জনসভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে ভিড়ে–ঠাসা জমায়েতের সামনে তীব্র ভাষায় বিজেপি–কে আক্রমণ করেন অভিষেক ব্যানার্জি। তৃণমূল সরকারের ৭ বছরের কাজের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি জানান, তৃণমূল গ্রামে গ্রামে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা চালু করেছে। প্রতিটি গ্রামের রাস্তাঘাট তৈরি হয়েছে। বিজেপি ২ কোটি চাকরি দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি বলেন, ‘‌একবার নয়, সাতবার জন্ম নিলেও আগামী লোকসভা নির্বাচনে একটি বুথ থেকেও তৃণমূলকে সরাতে পারবে না বিজেপি।’‌ বিজেপি–র ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘‌হিন্দুত্ব কখনও ধ্বংস শেখায় না। আমি স্বামীজির হিন্দুত্বে বিশ্বাস করি। স্বামীজি বারবার বলেছেন, যে কোনও সমাজের উন্নয়নের জন্য স্বাধীনতার প্রয়োজন। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের স্বাধীনতা দরকার। অথচ কেন্দ্রীয় সরকার মানুষের খাওয়াদাওয়া, কথাবার্তা, চলাফেরা— সব ব্যাপারে বিধান দিচ্ছে।’‌ 
অভিষেক জানান, তিনি যোগী আদিত্যনাথের হিন্দুধর্মে বিশ্বাস করেন না। মমতা ব্যানার্জি হিন্দুদের জন্য যা করেছেন তার শতকরা পাঁচ ভাগও বিজেপি শাসিত কোনও রাজ্য করেনি। হিন্দুদের জন্য মমতা ব্যানার্জির কাজের খতিয়ানও এদিন তুলে ধরেন অভিষেক। জানান, দক্ষিণেশ্বরে স্কাই ওয়াক চালু করেছে এই সরকার। গঙ্গাসাগরের মেলা উপলক্ষে গঙ্গাসাগরকে আরও আধুনিক করে গড়ে তোলা হয়েছে। ভগিনী নিবেদিতার বাড়ি সংস্কার করা হয়েছে। কলকাতার রেড রোডে প্রতি বছর দুর্গাপুজোর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন এই সরকারই প্রথম শুরু করেছে।
অভিষেক বলেন, ‘‌মমতা ব্যানার্জি তার দেওয়া যাবতীয় প্রতিশ্রুতি পালন করে দেশের কাছে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দুর্নীতি রুখতে সারদা–কাণ্ডের নায়ক সুদীপ্ত সেনকে কোমরে দড়ি পরিয়ে কাশ্মীর থেকে কলকাতায় নিয়ে এসেছিলেন মমতা ব্যানার্জি। অথচ, বিজেপি–‌র আশ্রয়ে নীরব মোদি, ললিত মোদি, বিজয় মালিয়ারা হাজার হাজার কোটি টাকা লুঠ করে সুরক্ষিতভাবে দেশের বাইরে পাড়ি দিয়েছে। 
তাদের লুঠ করা টাকা উদ্ধারে কোনও উদ্যোগ নিচ্ছে না বিজেপি সরকার। রাজ্যে তৃণমূল সরকার আসার পরে কন্যাশ্রী, যুবশ্রী, সবুজ সাথী–সহ একাধিক 
প্রকল্পে আড়াই কোটি মানুষ উপকৃত হয়েছেন।’‌ 
এদিনের সভায় অভিষেক ব্যানার্জি ছাড়াও রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী বাচ্চু হাঁসদা, জেলার পর্যবেক্ষক সাংসদ সুব্রত বক্সি, বালুরঘাটের সাংসদ অর্পিতা ঘোষ, প্রাক্তন মন্ত্রী শঙ্কর চক্রবর্তী, তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্র, জেলা পরিষদের সভাধিপতি ললিতা টিগ্গা–সহ জেলার বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্ব হাজির হয়েছিলেন। সভা উপলক্ষে এদিন সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমান বালুরঘাট হাই স্কুল ময়দানে। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top