গৌতম চক্রবর্তী- দাঙ্গা লাগিয়ে বিজেপি–র ক্ষমতায় আসার চেষ্টাকে কড়া ভাষায় নিন্দা করলেন তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি। সোমবার সোনারপুরের জয় হিন্দ অডিটোরিয়ামে দলের যুব সংগঠনের বর্ধিত সভায় এসে তিনি কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘‌যেখানে মনে হবে ভোট দেবেন। তৃণমূল সরকার পরিষেবা দেবে। কংগ্রেস, সিপিএম বা বিজেপি— যে দলকে পছন্দ তাকেই ভোট দেবেন। তৃণমূলের পক্ষে ভোট দিলেও পরিষেবা পাবেন। বিপক্ষে দিলেও পরিষেবা পাবেন। কিন্তু দাঙ্গা করলে ‘‌লক অ্যান্ড কি’‌‌ করে দেওয়া হবে। সারাজীবনের মতো আর বের হতে পারবেন না।’‌
বিজেপি–কে আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, ‘‌আগামী বিধানসভা ভোটে বাংলায় শেষ যাত্রা হবে বিজেপি–র। আর ‘‌জয় শ্রী রাম’‌ বলতে হবে না ওদের। বাংলা থেকে ওদের বিদায় করা হবে। এ রাজ্যে বিজেপি–কে দাঙ্গা করতে দেব না। বিজেপি দেশে যেখানে যেখানে ক্ষমতায় এসেছে সেখানে দাঙ্গা করেই এসেছে। এ রাজ্যে দাঙ্গা করলে ‘‌লক অ্যান্ড কি’‌।’‌ এদিন বিজেপি–কে এ রাজ্য থেকে তাড়ানোর জন্য কর্মীদের বিশেষ কৌশল বাতলে দেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘‌বিজেপি–কে তাড়াতে গেলে ভোটের শতাংশ বাড়াতে হবে। মানুষের কাছে যেতে হবে। জনসংযোগ যাত্রা করতে হবে। নেতা–‌নেত্রীরা এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের অসুবিধার কথা জানবেন। দলীয় নেত্রী যদি ২৩টা জেলা ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যার কথা শুনতে পারেন। তবে আপনারা কেন পারবেন না?‌’‌
এদিনের সভা থেকে ২০২১ সালে বাংলার মানুষকে নিয়ে বিজেপি–কে জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান অভিষেক। তিনি বলেন, ‘‌বিজেপি যতই আগুন লাগানোর চেষ্টা করুক না কেন। ৪৪ শতাংশ ভোট বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করতে হবে।’‌ তিনি যুব কর্মীদের কাছে লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়ে বলেন, ‘‌রাজ্যে তৃণমূলকে আগামী বিধানসভায় ২৫০ আসন পাওয়াতে হবে। সিপিএমের ভোট কমে ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তার মানে, বিজেপি–কে সব ভোট দিয়েছে সিপিএম।’‌ কাটমানি নিয়ে তিনি এদিন বলেন, ‘‌কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা জানান দলকে। একদিন ঠিক বিচার হবেই।’‌ এদিনের সভায় ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা থেকে ১ লক্ষ মানুষ নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য দেওয়া হয় কর্মীদের। তিনি বলেন, ‘‌এবারে ২১ জুলাইয়ের স্লোগান— গণতন্ত্র চাই। ইভিএম নয়, ব্যালটে ভোট চাই।’‌ সোমবারেই এই বর্ধিত কর্মিসভায় ছিলেন সাংসদ চৌধুরি মোহন জাটুয়া, জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি শুভাশিস চক্রবর্তী, বিধায়ক বঙ্কিম হাজরা, ফিরদৌসি বেগম, যুব তৃণমুল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি শওকত মোল্লা প্রমুখ।

সোনারপুরের সভায় সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি। ছবি: প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top