দীপঙ্কর নন্দী: ‘‌খুব কাশি হলে সঙ্গে সঙ্গে টেস্ট করাতে হবে। কোথাও দেখা যাচ্ছে, ৫–‌৭ জন খুব কাশছে, তাদের চিহ্নিত করে সেভ হাউসে পাঠিয়ে দিন। টেস্ট করলে দেখা যাবে, ভুল রিপোর্ট এসেছে। তাতে কী হয়েছে?‌ টেস্ট মাস্ট। হঠাৎ যদি বিপদ এসে পড়ে, তার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’‌
সুদূর আমেরিকার বস্টন শহরে নিজের বাড়ি থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে একথা জানালেন। ভিডিও কনফারেন্স শুরুর আগে মমতা বলেন, ‘‌গ্লোবাল অ্যাডভাইসরি বোর্ড’‌ করোনার জন্য তৈরি করা হয়েছে। মাথায় আছেন অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জি। অভিজিৎদার সঙ্গে আমার আগেই ফোনে কথা হয়। তিনি অনেকগুলি পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেগুলো কাজে লেগেছে। আমরা দুজনেই ঠিক করেছিলাম, ভিডিও কনফারেন্স করব। বাংলায় এখন বিকেল ৫টা। বস্টনে সকাল সাড়ে ৭টা। কথা বলার জন্য অভিজিৎদাকে খুব সকালে উঠতে হয়েছে।’‌
নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও ছিলেন মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা ও বিশিষ্ট চিকিৎসক অভিজিৎ চৌধুরি। মুখ্যমন্ত্রী নোবেলজয়ীর কথা মন দিয়ে শোনেন। সাংবাদিকদেরও এই ভিডিও কনফারেন্সটি সরাসরি দেখানো হয়। নোবেলজয়ী বলেন, মনটা খারাপ হয়ে আছে। একটা আশঙ্কা। এই সময় খুব একটা কথা বলতে সাধারণত ভাল লাগে না। করোনা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে, সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, ‘‌একটু আগেই শুনছিলাম, মুখ্যমন্ত্রী কৃষি বাজার, কিসান মান্ডি খুলে দিচ্ছেন। ভাল কথা। আমার পরামর্শ হল, বাজার খুলে দিলে বহু মানুষ একসঙ্গে ঢুকবেন, একসঙ্গে বেরোবেন। প্রত্যেকের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করতে হবে। বাজারের গেটের সামনে স্যানিটাইজার না হলেও, ঘটিতে জল ও সাবান রাখতে হবে। হাত ধুয়ে ঢুকবেন, বেরোনোর সময়ও হাত ধোবেন। তাইওয়ান ও কোরিয়া এটা করে খুব সাফল্য পেয়েছে। কাপড় দিয়েও মুখোশ তৈরি করা যায়। মুখে হাত দেবেন না। সমদূরত্ব রাখতে হবে। করোনা দূর করার জন্য আধুনিক কোনও প্রযুক্তি নেই। সতর্ক থাকলে, যত্ন নিলে, বাড়িতে থাকলে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।’‌
অভিজিৎ বিনায়ক বলেন, ‘‌করোনা নিয়ে তো ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এই ভয় ভাঙতে হবে। টেস্ট করাতে মানুষ ভয় পাচ্ছেন। মানুষকে বোঝাতে হবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, মানুষ বুঝবেন।’‌
মমতা সব শুনে বলেছেন, ‘‌টেস্ট করার জন্য এজেন্সি দেখছি। বাংলায় সবজি বাজার চলছে। আমাদের এখানে অর্থের অভাব আছে। প্রত্যেক বাজারের সামনে স্যানিটাইজার রাখছি। মোবাইল অ্যাপও তৈরি করেছি। ‘‌আশা’‌র মেয়েদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। র‌্যাপিড টেস্ট বুধবার থেকে শুরু হবে। মার্কেট কমিটিগুলির কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। ‌আমরা এখানে ফান্ড করেছি। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে বহু শিল্পপতি বিশাল অঙ্কের টাকা দান করেন। আমাদের এখানে এত বড় শিল্পপতি নেই। তবুও সাধারণ মানুষ আমাদের তৈরি এই তহবিলে দান করছেন।’‌
অভিজিৎ বিনায়ক বলেন, ‘‌যে যা পারবেন, ত্রাণ তহবিলে দান করুন।’‌
মমতা বলেন, ‘‌আপনার পরামর্শ খুব কাজে লাগবে। আমরা প্রতিদিন এই নবান্নে ৪টে থেকে ৫টা প্রেসের সামনে আসি। আপনি যেদিন পারবেন, সেদিন ভিডিও কনফারেন্সে আসবেন। আপনি শরীরের যত্ন নেবেন।’‌
নোবেলজয়ী বলেন, ‘‌আপনি তো ঘুরছেন। আমি গৃহবন্দি। বাড়ি থেকে অফিসের সব কাজ করছি। সাবধানে থাকবেন।’‌
মমতা তাঁকে বাংলা নববর্ষের আগাম শুভেচ্ছা জানান। স্ত্রী, মা ও সন্তানরা কেমন আছেন, জানতে চান। মমতাকে পাল্টা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান অভিজিৎ বিনায়ক। বলেন, ‌‘‌সময় পেলে নিশ্চয়ই ভিডিও কনফারেন্স করব।’‌ এদিন মমতা সাংবাদিকদের বলেন, ‘গ্লোবাল অ্যাডভাইসরি বোর্ডে অভিজিৎ বিনায়কবাবু ছাড়াও রয়েছেন স্বরূপ সরকার, টম ফ্রেডেন, জিষ্ণু দাস, জে ভি আর প্রসাদ রাও, সিদ্ধার্থ দুবে, সুকুমার মুখার্জি এবং অভিজিৎ চৌধুরী।’

জনপ্রিয়

Back To Top