গৌতম মণ্ডল,নামখানা: অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি!‌ গত পঁাচদিন নদীর জলেই ভেসেছিলেন রবীন্দ্রনাথ দাস ওরফে কানু। বুধবার সকালে বাংলাদেশের নদীতে রবীন্দ্রনাথকে ভাসতে দেখেন সেখানকার এমভি জাওয়াদ নামে একটি জাহাজের নাবিকরা। তার পর খবর দেওয়া হয় বাংলাদেশ নৌসেনা ও উপকূল রক্ষী বাহিনীকে। কিন্তু ২ ঘণ্টা পরেও খারাপ আবহাওয়ার জন্য রবীন্দ্রনাথকে উদ্ধারে কেউ তৎপর হননি। অবশেষে জাওয়াদের নাবিকরাই রবীন্দ্রনাথকে উদ্ধার করার উদ্যোগ নেন।
প্রথমে লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হয় রবীন্দ্রনাথকে। কিন্তু তিনি তা পরতে পারেননি। কয়েকদিন জলে ভেসে থাকার পর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তার পর দেওয়া হয় লাইফ বয়া। সেই বয়াটি ধরতেই উল্টোদিক থেকে নাবিকরা টেনে নিয়ে আসেন কাছে। পরে জাল ফেলে জাহাজে তোলা হয় রবীন্দ্রনাথকে। পোশাক ও খাবার দেওয়া হয় তঁাকে। প্রাথমিক চিকিৎসাও করা হয় জাহাজে। উদ্ধারের খবর বাংলাদেশ সরকার মারফত দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন ও মৎস্যজীবী সংগঠনের কাছে আসে। খবর যায় রবীন্দ্রনাথের বাড়িতে। কাকদ্বীপের নারায়ণপুরের বাসিন্দা রবীন্দ্রনাথ। তিনি ছিলেন এফবি নয়ন ১ ট্রলারের মাঝি। এই ট্রলারের ১৬ মৎস্যজীবী নিখোঁজ ছিলেন। তার মধ্যে উদ্ধার হল একমাত্র রবীন্দ্রনাথ।
জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে এফবি–নয়ন ইলিশ মাছ ধরতে পাড়ি দিয়েছিল। ট্রলারে ছিলেন ১৬ মৎস্যজীবী। রবীন্দ্রনাথ ছিলেন মাঝি। শনিবার বিকেল নাগাদ বাংলাদেশ সীমান্তে ট্রলারটি ডুবে যায়। ১৬ মৎস্যজীবী জলের তোড়ে ভেসে যায়। বুধবার বিকেলে খবর আসার পর থেকে স্বস্তি ফিরেছে নারায়ণপুরের দাস পরিবারে। পরিবারে বাবা–মা, স্ত্রী ও এক ছেলে আছেন। কার্যত সকলেই রবীন্দ্রনাথের বাড়ি ফেরার আশায় দিন গুণছেন। বাবা মধুমঙ্গল দাস বলেন, ‘‌ছেলেকে ঈশ্বর ফিরিয়ে দিয়েছেন। না হলে এভাবে ৫ দিন জলে ভেসে বেঁচে থাকা যায় না। বাংলাদেশের জাহাজের নাবিকদেরও ধন্যবাদ দেব। আশা করব ট্রলারের বাকি মৎস্যজীবীদেরও খোঁজ মিলবে।’‌ সুন্দরবন সামুদ্রিক মৎস্যজীবী শ্রমিক সংগঠনের সম্পাদক সতীনাথ পাত্র বলেন, ‘‌বাংলাদেশের নাবিকরা খুব সাহায্য করেছেন। অন্য মৎস্যজীবীদের উদ্ধারেও তঁাদের ভূমিকা প্রশংসনীয়। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি জারি রাখার আবেদন করব।’‌

বাংলাদেশের জলসীমায় মৎস্যজীবীদের উদ্ধারে তৎপরতা। ছবি: প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top