অমিতকুমার ঘোষ
কৃষ্ণনগর, বল্লালঢিপি। সেনবংশের রাজা বল্লাল সেনের নামাঙ্কিত এই ঢিপিতে খননকার্য চালিয়ে প্রায় এক হাজার বছরের পুরনো প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেলেও সেখানে আজও পর্যটকদের আকর্ষণ করার মতো ব্যবস্থা গড়ে উঠল না। অথচ আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া আজ থেকে তিন দশক আগে এখানে খননকার্য চালিয়ে ছিল। তখনই পাওয়া গিয়েছিল হাজার বছরের প্রাচীন প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ, পঙ্খের মূর্তি, পোড়ামাটির মানুষ ও জীবজন্তুর মূর্তি, তামা ও লোহার তৈরি নানান তৈজসপত্র, পেরেক ও নানান প্রত্নসামগ্রী। ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের মতে, অষ্টম ও নবম শতকের ধ্বংসপ্রাপ্ত পুরনো স্থাপত্যকীর্তির ওপর পুনর্নির্মিত এই সৌধের উপরিভাগ আনুমানিক দ্বাদশ শতকের। এখন এই জায়গাটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। পর্যটকদের জন্যে দিনের কিছুটা সময় খোলা থাকে। কিন্তু জায়গাটির পর্যটকদের আকর্ষণ করার মতো গুণসম্পন্ন হলেও তাঁদের আকর্ষণ করার মতো প্রচার নেই, এলাকায় থাকা–‌খাওয়ার মতো ভাল ব্যবস্থাও নেই। ফলে এই ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি আজও প্রায় পর্যটকহীন। অথচ তার কয়েক কিলোমিটার দূরে মায়াপুরে ইস্কনের প্রচারের দৌলতে পর্যটকদের ছড়াছড়ি। বল্লালটিপি বামুনপুকুর গ্রামের কাছেই। বামুনপুকুর আবার কৃষ্ণনগর থেকে মায়াপুর যাওয়ার সড়ক পথের ওপর। ফলে প্রত্যেক দিনই প্রচুর ভ্রমণপিপাসু পর্যটক এই রাস্তা দিয়ে সড়ক পথে মায়াপুর যান। অথচ সেই পর্যটকদের এক শতাংশও বল্লালঢিপিতে আসেন কিনা সন্দেহ। কারণ, অনেকেই জানেন না কাছেই আছে এত পুরনো পুরাকীর্তি। আবার অনেকে জানলেও এলাকায় থাকা–‌খাওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় আসেন না। ঐতিহাসিক এই ঢিপিটি দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় মানুষের কাছে ‘‌বল্লালঢিপি’‌ নামে পরিচিত। এর দক্ষিণ দিকে আছে বড়দিঘি এবং তারও দক্ষিণে আছে বল্লালদিঘি গ্রাম। অনেকে বলেন, এখানে বল্লাল সেনের রাজধানী ছিল। ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ দু দফায় এখানে ১৯৮২–’‌‌৮৩ থেকে ১৯৮৮–’‌‌৮৯–এর মধ্যে খননকার্য পরিচালনা করে। উৎখননের ফলেই এখানে আবিষ্কৃত হয় এক বৃহদায়তন ইটের ইমারত যার চারদিকে ছিল উচ্চ প্রাকার। এই ইমারতটির ধ্বংসাবশেষ এত জটিল যে এখানে ঠিক কী ছিল তা বোঝাই দুষ্কর। আসলে কয়েক শতাব্দী ধরে এই ইমারতে নানা পরিবর্তন, পরিবর্ধন করা হয়েছিল। সেকারণেই হয়ত জটিলতা লাভ করেছিল। প্রথমে নবম শতকে এই পুরাকীর্তি প্রথম তৈরি হলেও পরবর্তীকালে সেটা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। পরবর্তীকালে তার ওপরেই আবার নতুন সৌধ নির্মিত হয়। ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের মতে, বিভিন্ন সময়ের মেরামত, পরিবর্তন ও সংযোজনের নিদর্শনবাহী এই স্থাপত্য দ্বাদশ শতকে একটি বিশাল দেবালয়ের রূপ পরিগ্রহ করে।‌

কৃষ্ণনগরের বল্লাল সেনের ঢিপি।

জনপ্রিয়

Back To Top