আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ একদিকে বিজেপিকে হুঁশিয়ারি অন্যদিকে একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ কংগ্রেস–সিপিএমকেও সতর্ক করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। সিপিএম–কংগ্রেসের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘‌ওরা বিজেপি’‌র বিরুদ্ধে ল‌ড়াই করছে না। আপনাদের সমর্থন চাই না। কিন্তু যে ডালে বসে রয়েছেন তা কাটবেন না। সিপিএমের লজ্জা–ঘেন্না–ভয় নেই। ওরা এখন নকল বিজেপি সেজে সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। তিনটি পার্টি এক হয়ে কাজ করছে।’‌
লোকসভা নির্বাচনে সিপিএমের একটি অংশ ভোট দিয়েছে বিজেপিকে। সেদিকেই ইঙ্গিত করেই এই কথাগুলি বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এখন রাজ্যে বিজেপিকে ঠেকাতে মমতার সিপিএম–কংগ্রেসের সমর্থন নেওয়া উচিত বলেও অনেকে মনে করছেন। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির বিরুদ্ধে দুই দলকেই হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। তাই তাঁর পরামর্শ, ‘‌কংগ্রেস–সিপিএম যে ডালে বসে আছে, সেই ডাল কাটবেন না। আমাদের সমর্থন করতে হবে না। তোমাদের সাইনবোর্ড ওরা নিয়ে নিয়েছে। সেটা পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করুন।’‌ এই পরামর্শ বিরোধীদের প্রতি সৌজন্যও বলে মনে করছেন অনেকে। 
তিনি মনে করিয়ে দেন, ‘‌আমরা বদলা নয়, বদল চাই নীতি নিয়েছিলাম। ১৮টি আসন জিতে এত চিৎকার করছে ওরা। ২০০৯ সালে আমরা ২৬টি আসন পেয়েছিলাম। কিন্তু আমরা কোন পার্টি অফিস দখল করিনি। আমাদের কাজের জন্য মানুষ আমাদের জিতিয়েছে। সিপিএমের হার্মাদরাই এখন বিজেপির জল্লাদ। ওরা আসলে নতুন বোতলে পুরনো মদ। আমরা যখন ক্ষমতায় এসেছিলাম তখন সিপিএমের একজনের বিরুদ্ধে কোনও প্রতিশোধ নিইনি। কিন্তু বিজেপি রাজ্যে কয়েকটি আসন পাওয়ার পরই কী করছেন দেখুন। রাজ্যে অশান্তি করছে। বিজেপিকে ভোট দিলে ভাটপাড়া হয়। ওরা আমাদের সাংসদদের প্রতিনিধিদলকেও উত্তরপ্রদেশে ঢুকতে দেয়নি। তবে দলের নেতা–কর্মীদের উদ্দেশ্যে তৃণমূল নেত্রীর পরামর্শ, সিপিএম কংগ্রেসে বহু ভালে মানুষ রয়েছেন। তাদের দলে স্বাগত জানান।’‌
আর বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌বিবেকানন্দ, বিদ্যাসাগর, রামমোহন, রবীন্দ্রনাথ, বিরসা মুণ্ডার মূর্তিতে হাত দেবেন না। যদি তা করেন তাহলে এই বাংলা মাথানত করবে না। ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বুঝে নেব। তখন আমরা লবচেয়ে বিপজ্জনক সীমানা পার করে যাব।’‌ লোকসভা নির্বাচন চলাকালীন কলকাতায় বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছিল বিজেপি’‌র কর্মী–সমর্থকরা বলে অভিযোগ। তাই এই কথা বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। 

জনপ্রিয়

Back To Top