আজকালের প্রতিবেদন: ডারবানের রাস্তায় মধ্যরাতে ছুটে বেড়াচ্ছেন সৌরভ গাঙ্গুলি। হন্যে হয়ে‌ খুঁজছেন যুবরাজ সিংকে!‌ হল কী?‌ 
পরেরদিন ম্যাচ। আগের রাতে সবাই হোটেলের রুমে আছে কিনা, জানতে নিরাপত্তারক্ষীকে বলে রেখেছিলেন সৌরভ। সবাই রুমে থাকলেও, নিরুদ্দেশ যুবি!‌ গেল কোথায়?‌ তাও এত রাতে?‌ মুহূর্তে ঘুম উধাও ভারত অধিনায়কের। সময় নষ্ট না করে বেরিয়ে পড়লেন। নিরাপত্তারক্ষীকে সঙ্গে নিয়েই। গাড়িতে চড়ে এক রেস্তোরাঁ থেকে আরেক রেস্তোরাঁয় ছুটলেন। অনেক পরে মিলল খোঁজ। যুবি তখন রিল্যাক্সড মুডে। ম্যাচ, চ্যালেঞ্জ—কিছু মাথায় আছে বলেই শরীরি ভাষায় প্রমাণ নেই। আর সৌরভ?‌ যাবতীয় দুশ্চিন্তা, রাগ ভেতরে চেপে, কাঁধে হাত রাখলেন যুবির। তারপর শান্ত গলায় বললেন, ‘‌অনেক হয়েছে। এবার হোটেলে চলো। কাল ম্যাচ খেলতে হবে তো?‌’‌ অধিনায়ক থাকাকালীন কীভাবে সতীর্থদের সামলাতেন, সৌরভের কাছে জানতে চেয়েছিলেন একজন। এক আলোচনা সভায়। জবাবে বক্তা সৌরভ শুনিয়েছিলেন ওপরের গল্পটা। এমন মুডি সতীর্থকে সামলানোই দায়। অথচ দিনের পর দিন সৌরভ সামলেছেন। সেরাটা বেরও করে এনেছেন। মধ্যরাতে যাঁর জন্য ছুটতে হয়েছিল বিদেশ–বিভুইয়ে, সেই যুবির ওপর কোনও রাগ নেই ভারতের প্রাক্তন অধিনায়কের। যুবরাজ তাঁর বিদায়ী ভাষণে মাত্র একবারই সৌরভ গাঙ্গুলির নাম নিয়েছিলেন সোমবার। ব্যাপারটা দেখে অনেকেই ভ্রু কুঁচকেছিলেন। কিন্তু ‘‌দাদি’‌র সঙ্গে ‘‌যুব’–এ‌র সম্পর্কে ফাটল ধরেনি। বরং ভালবাসার দ্বিতীয় ইনিংসটাও একইরকম আছে, থাকবেও। বুঝিয়ে দিলেন দু’‌জনেই, টুইটারে। যুবরাজের অবসরের খবর শুনে সৌরভ প্রথমে টুইট করেন, ‘‌প্রিয় যুব, সব ভাল জিনিসই এক সময় শেষ হয়। তোমার জীবনে যা শেষ হল, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। অসাধারণ। তুমি আমার ছোট ভাইয়ের মতো। খুব প্রিয়। খুব কাছের। হ্যাঁ, তোমার কাছে যেটা এর থেকেও বেশি প্রিয়, সেটা এবার শেষ হল। গোটা দেশ তোমাকে নিয়ে গর্বিত। অনেক ভালবাসা রইল। দুর্ধর্ষ এক কেরিয়ার শেষ করলে।’‌ সৌরভের এই টুইটের পাল্টা টুইট করেন যুবরাজ, ‘‌ভারতের হয়ে খেলার এবং স্বপ্নকে সত্যি করার সুযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ দাদি। তুমি সব সময়ই আমার কাছে স্পেশাল।’‌ 
স্বাভাবিকভাবেই বার্তার এই আদান–প্রদান মন ছুঁয়েছে সোশ্যাল দুনিয়ার।‌ চব্বিশ ঘণ্টা আগেও যাঁরা ভ্রু কুঁচকেছিলেন, তাঁদেরও!‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top