উৎপল চ্যাটার্জি: বিশ্বকাপের বহু প্রতীক্ষিত ম্যাচ। যে ম্যাচ ঘিরে শুধু সমর্থক নয়, রাজনৈতিক, কূটনৈতিক পর্যায়েও তোলপাড়। শুধু শক্তি–দুর্বলতা বা কোন কোন খেলোয়াড় দলে, এসব দিয়ে বিচার করে কখনও এই ম্যাচের ভবিষ্যদ্বাণী করা যায় না। করাটা বোকামি। 
যে দল স্নায়ুর চাপ ধরে রেখে খেলবে, তারাই ম্যাচ বের করবে। এবং এক্ষেত্রে ভারতই সব সময় এগিয়ে থেকে শুরু করে। এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে টেকনিক্যাল বিষয়ের থেকেও গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ুর চাপ ধরে রাখা। এখানেই সরফরাজদের থেকে এগিয়ে শুরু করে কোহলিরা। শুধু বিশ্বকাপ নয়, খেয়াল করলে দেখা যাবে, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বা শারজার ম্যাচ বাদ দিলে বিদেশের নিরপেক্ষ মাঠে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের জয়ের অনুপাত কম। ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল অবশ্য ব্যতিক্রম। 
ভারতীয় দলের কম্বিনেশনে সবচেয়ে বড় ধাক্কা শিখর ধাওয়ানের না থাকা। ওপেনিংয়ে বাঁ–হাতি, ডানহাতি ব্যাটসম্যান জুটি থাকলে বিপক্ষের পেসাররা লাইন–লেংথ ধরে রাখতে সমস্যায় পড়ে। কারণ, বল নড়াচড়া করলে দুই ব্যাটসম্যানকে দু’রকম লাইনে বল করতে হয়। সেই সুযোগটা কাজে লাগায় ব্যাটিং টিম। যেমন অস্ট্রেলিয়ার ওয়ার্নার–ফিঞ্চ। দক্ষিণ আফ্রিকার আমলা–ডিকক। রোহিত–শিখরও তাই করত।
পাকিস্তান ম্যাচে শিখরের অনুপস্থিতিতে লোকেশ রাহুলকে দিয়ে ওপেন করানোর সম্ভাবনাই বেশি। কারণ, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে নতুন বল সামলানোর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজনকে আনাই কাম্য। তবে রোহিত–রাহুল ওপেন করলে পাকিস্তান বোলারদের লাইন–লেংথ বদলানোর জন্য সমস্যায় পড়তে হবে না।
বরং শিখরের বদলে প্রথম একাদশে বিজয় শঙ্করকে খেলানো হোক। এতে বিরাটের হাতে আরও একজন পেসারের বিকল্প থাকবে। হার্দিকের সঙ্গে বিজয় থাকলে সামির অভাব যেমন ঢাকা যাবে, তেমনই ব্যাটিংয়ের গভীরতাও বাড়বে। বাকি দল অপরিবর্তিত থাকুক। স্পিনে কুলদীপ–চাহাল জুটি খুব খারাপ করছে না। এই ম্যাচে পরীক্ষা–নিরীক্ষার রাস্তায় না হাঁটাই উচিত। ঘুরিয়ে–‌ফিরিয়ে বাকিদের দেখে নেওয়ার জন্য পরের ম্যাচগুলো রয়েছে।
ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ বিশ্বকাপ ফাইনালের থেকে কোনও অংশে কম নয়। এই ম্যাচকে ঘিরে বরাবরই যে পরিমাণ উত্তেজনা তৈরি হয়, তা কোনও অংশেই সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের থেকে কম নয়। এবারও নিশ্চয়ই ব্যতিক্রম হবে না।‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top