উৎপল চ্যাটার্জি: বিশ্বকাপ ফাইনালকে ঘিরে দুটো পরিসংখ্যানে চোখ আটকে গেল। এক, এবারের বিশ্বকাপে লর্ডসে চার ম্যাচের প্রত্যেকটায় প্রথমে যে দল ব্যাট করেছে, তারাই জিতেছে। দুই, গত দুটো বিশ্বকাপের ফাইনালে টস হেরে রান তাড়া করতে নেমে আয়োজক দেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। পরিসংখ্যান অনেক কথাই বলে। কিন্তু সেটার ওপর ভরসা করে কখনও মাঠে ক্রিকেট খেলা হয় না। সেটা তো দেখাই গেল।
প্র‌ত্যেকটা ম্যাচ শূন্য থেকে শুরু করতে হয়। তার ওপর বিশ্বকাপ ফাইনালের চাপ। তা সে তুমি যতই ঘরের মাঠে চেনা পরিবেশে খেলো না কেন। রবিবার লর্ডসে প্রতি মুহূর্তে সেটাই ফুটে উঠল। এদিন ইংল্যান্ড বোলাররা যেভাবে শুরু করেছিল, একসময় মনে হচ্ছিল নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ২২০–২২৫ রান তোলা মুশকিল হয়ে যাবে। অথচ সেখান থেকে বোর্ডে ২৪১ রান তুলে ফেলল। অবশ্যই লড়াই করার মতো স্কোর। তা ছাড়া ওভারপ্রতি পাঁচের আশেপাশে রান তাড়া করতে নেমে ব্যাটসম্যানদের মধ্যে একটা দোলাচল কাজ করে। ধরে খেলব, নাকি চালিয়ে খেলব। ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রে সেটাই হল। পুরো বিশ্বকাপে, এমনকী অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সেমিফাইনালেও জেসন রয়–জনি বেয়ারস্টো জুটি মারকাটারি ব্যাটিং করেছিল। অথচ ফাইনালে থমকে গেল। এটাই বিশ্বকাপ ফাইনালের চাপ।
ইংল্যান্ড পেসাররাও যেভাবে শুরু করেছিল, তাতে শেষ পর্যন্ত রানটা একটু বেশিই হয়ে গেল। কিউয়ি ব্যাটিংয়ের বড় ভরসা গাপটিল, উইলিয়ামসন, রস টেলররা বড় রান পায়নি। তা সত্ত্বেও নিউজিল্যান্ড বোর্ডে ২৪১ রান তুলে নিল। এ জন্য ওপেনার হেনরি নিকোলস আর মিডল অর্ডারে টম লাথামকে কৃতিত্ব দিতে হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী যেরকম ব্যাট করা প্রয়োজন, ঠিক তেমন খেলল। এখন তো দেখা যাচ্ছে, অধিনায়ক উইলিয়ামসনের ৩০ রানের ইনিংসটাও বড় ভূমিকা রাখল। সেজন্যই স্লগ ওভারে লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা হাত খুলে খেলতে পেরেছে। আর ২৪১ রানের ম্যাচে শেষ ১১ ওভারে ওঠা ৬৮ রানটাই মহাগুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল, ফাইনালের মতো মঞ্চে আগুনে পারফরমেন্স। ক্রিস ওকস বুঝিয়ে দিল, ও লম্বা রেসের ঘোড়া। এখানে প্লাঙ্কেটেরও প্রশংসা করতে হবে। জোফ্রা আর্চার একটা গতি ধরে বল করতে পারে। হাতে বৈচিত্র‌্য আছে। কিন্তু মাথা খাটিয়ে বোলিং করে না। কখন ব্যাটসম্যানকে শর্ট বল দেওয়া উচিত, কখন স্লোয়ার, সেটা বুঝতে হবে। সত্যি বলতে, আর্চার উইকেটের চরিত্রকে ঠিকঠাক ব্যবহার করতে পারে না। ব্যাটসম্যান যা চাইছে, তার উল্টো বোলিং করতে হবে। তবেই বড় বোলার হওয়া যায়।
সেমিফাইনালে ভারতীয় দল সমস্যায় পড়েছিল অন্য কারণে। ম্যাচটা দ্বিতীয় দিনে গড়িয়েছিল। আবহাওয়া আরও খারাপ হয়ে গিয়েছিল। ফলে পেস বোলাররা বাড়তি সুবিধে পেয়ে যায়। প্রথম দিনেই খেলা শেষ হয়ে গেলে হয়তো এরকম হত না। লর্ডসের উইকেট নিউজিল্যান্ড বোলারদের কাছে কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। প্রথম ইনিংস খেলা হয়ে গিয়েছে। ফলে উইকেট তুলনায় অনেকটা শুকিয়ে গিয়েছে। তার ওপর বিপক্ষ ব্যাটসম্যানরাও উইকেটের চরিত্র সম্পর্কে একটা ধারণা পেয়ে গিয়েছে।‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top