সংবাদ সংস্থা: জকোভিচ বনাম নাদাল — না, ইউএসওপেনের ফাইনালে হচ্ছে না। বরং লড়াইটা হবে জকোভিচ বনাম দেল পোত্রোর!‌ শুক্রবার গতবারের চ্যাম্পিয়ন ও বিশ্বের ১ নম্বর রাফায়াল নাদাল হাঁটুর চোটের জন্য সেমিফাইনালের মাঝপথে খেলা ছেড়ে দেন। নাদাল যখন খেলা ছাড়েন তখন ৭–৬ (‌‌৭–৩)‌‌, ৬–২ পিছিয়ে। ২০০৯ সালে ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন আর্জেন্টিনার হুয়ান মার্টিন দেল পোত্রো। এবার লড়াই শেষের আগেই ফাইনালের টিকিট পেয়ে যাওয়ায় অনেকেই দেল পোত্রোকে লাকি মনে করছেন। তবে ফাইনালের লড়াইটা ভয়ঙ্কর কঠিন। কারণে সামনে ২০১১, ২০১৫–তে ইউএস ওপেন জয়ী জকোভিচ। যিনি ৬–৩, ৬–৪, ৬–২ জাপানের নিশিকোরিকে হারিয়ে অষ্টমবার ইউএস ওপেনের ফাইনালে উঠেছেন। জকোভিচ–দেল পোত্রোর মুখোমুখি দেখায় পাল্লা ভারী সার্বিয়ানের। ১৪–৪ এগিয়ে জকোভিচ। 
জকোভিচ বলেছেন, ‘‌গ্র‌্যান্ড স্লামের ফাইনালে আমাদের কখনও দেখা হয়নি। দেল পোত্রোকে প্লেয়ার হিসেবে তো বটেই, মানুষ হিসেবেও অসম্ভব শ্রদ্ধা করি। ও খুব ভাল বন্ধুও। যখন চোটের জন্য দু’‌তিন বছর সমস্যায় ছিল, তখন ওর কষ্টটা আমরাও অনুভব করেছি। ও বড় ম্যাচের প্লেয়ার। গ্র‌্যান্ড স্লাম জয়ী। গত পনেরো মাস সবটুকু উজাড় করে দিয়ে টেনিস খেলছে।’‌ এ তো গেল প্রতিপক্ষের কথা। নিজের পারফরমেন্স নিয়ে কি সম্তুষ্ট?‌ জকোভিচ বলেছেন, ‘‌আমি ক্রমাগত চাপে রাখতে পেরেছি নিশিকোরিকে। ওকে সারা কোর্টে ছুটিয়ে ছেড়েছি। আর এভাবে ক্রমাগত ছুটিয়েই ওর ছন্দ নষ্ট করে দিয়েছি। সব কিছু মনের মতো হয়েছে। নিজের পারফরমেন্সে সন্তুষ্ট।’‌ 
জকোভিচ যখন এত কিছু বললেন ফাইনালের আগে, তখন চুপ থাকেননি দেল পোত্রোও। বলেছেন, ‘‌আমি যেভাবে ফাইনালে উঠলাম, ধাপ পেরোনোর সেই উপায়টা খুব একটা মনের মতো নয়। রাফার বিরুদ্ধে খেলতে দারুণ লাগে। কারণ, ও ভীষণ লড়াকু। তাই ওকে হাঁটুর চোটে কষ্ট পেতে দেখে ভাল লাগেনি।

’‌ ফাইনালে উঠে কেমন লাগছে?‌ দেল পোত্রোর জবাব, ‘‌ফাইনালে ওঠার অনুভূতি আলাদা। ভাবিনি আবার গ্র‌্যান্ড স্লামের ফাইনালে খেলব। ২০০৯–এর স্মৃতি আমার কাছে সবচেয়ে সুখের। সেবার রাফা (‌‌নাদাল)‌‌ এবং রজার (‌‌ফেডেরার)‌‌–কে হারিয়েছিলাম। তখন ছোট ছিলাম। এখন বয়স বেড়েছে।’‌ তিনি কোর্টে মানেই গ্যালারি থেকে ভেসে আসে ‘‌ওলে, ওলে,‌ ওলে’‌–র সুর। ছেলেবেলার একদল বন্ধু সব সময় হাজির থাকেন। দেল পোত্রোর কথায়, ‘‌ওরা আমার খুবই কাছের মানুষ। যখন কবজির চোটে জর্জরিত ছিলাম, সেই সময়ও ওরাই আমাকে ইতিবাচকভাবে ভাবতে সাহায্য করেছে। এর পরের জন্মে আমি আবার টেনিস প্লেয়ার হব কিনা জানি না। তবে এবার হয়েছি। তাই টেনিস বিশ্বকে চমকে দিতে ভাল লাগে। সেই সঙ্গে নিজেকেও চমকে দিতে দারুণ লাগে।’‌ ২৩ সেপ্টেম্বর ৩০–এ পা দেবেন। দেল পোত্রোর কথায়, ‘‌এই মুহূর্তে সব কিছু ঠিকঠাক চলছে। তাই ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে চাই।’‌ 
এদিকে সেমিফাইনালে এভাবে খেলা ছেড়ে দিতে হওয়ায় হতাশ নাদাল। বলেছেন, ‘‌খেলার মাঝপথে সরে দাঁড়াতে খুব খারাপ লাগে। বলতে পারেন, ব্যাপারটা আমি ঘৃণা করি। একজন খেলছে, অন্যজন কোর্টের একদিকে দাঁড়িয়ে!‌ এটা কি টেনিস ম্যাচ বলা যায়?‌ হাঁটুতে ঠিক কেমন সমস্যা হচ্ছিল, সে শুধু আমিই জানি। কী করলে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারব, সেটাও জানি। হার, শব্দটা নিয়ে চিন্তিত নই। চিন্তিত লড়াই করতে পারলাম না, এটা ভেবেই। গত বছর দারুণ কেটেছিল। এবার সেমিফাইনালের আগেও পর্যন্ত ভাল কেটেছে। শেষে একটাই কথা বলব, কেরিয়ারে এই ধরনের সমস্যার বিরুদ্ধে আমি আগেও লড়েছি। তাই লড়াই থামছে না। চেষ্টা চালিয়ে যাব। পরিশ্রমও করে যাব।’‌ ‌‌

 

যন্ত্রণায় মুখ কুঁচকে গেল নাদালের, সান্ত্বনা দেল পোত্রোর। এবারের মতো ইউএস ওপেনকে বিদায় জানাচ্ছেন বিশ্বের এক নম্বর। ‌আবার ফাইনালে জকোভিচ। ছবি:‌ এএফপি
 

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top