মুনাল চট্টোপাধ্যায়: আইজলের বিরুদ্ধে মোহনবাগানের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ান গোলকিপার লালরামরুয়াতা। রবিবার কল্যাণীতে চার্চিল ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে মোহনবাগানের প্রথম জয় পাওয়ার পথে অন্যতম বাধা হয়ে উঠতে পারেন বাঙালি গোলকিপার জাফর মণ্ডল। মাত্র ১৯ বছরেই নিজের জাত চিনিয়েছেন বসিরহাটের মাঠনিয়া গ্রামের জাফর। বাবার সবজি ও ফাস্ট ফুডের ছোট্ট দোকান আছে। তা দিয়েই কষ্ট করে দিন চলে। তাতেও ফুটবল খেলার পথে বাধা হতে দেয়নি পরিবার। বরং সবসময় উৎসাহ জুগিয়েছে।
মাঠনিয়া ফুটবল কোচিং ক্যাম্পে সমীরণ ভার্মার কাছেই ফুটবলে হাতেখড়ি জাফরের। দশ বছর তাঁর কাছেই প্রশিক্ষণ পেয়ে বেড়ে উঠেছেন তিনি। মাঝে কিছুদিন সাইতে ছিলেন। পরে ডাক পান মোহনবাগান অ্যাকাডেমিতে। কোচ ছিলেন জো পল আনচেরি। ওখানে থাকতেই আইএফএ শিল্ড খেলার সময় বাংলার নির্বাচকদের নজরে পড়েন। ২০১৩–‌‌১৪ মরশুমে সাব–‌জুনিয়র জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলা। ত্রিজিত দাসের কোচিংয়ে। ওই দলে ছিলেন জাফর। সেখান থেকেই উত্থান বাঙালি গোলকিপারের। অনূর্ধ্ব ১৫ জাতীয় শিবিরে ডাক পান। গোয়াতে থাকাকালীন জাপানের জাতীয় জুনিয়র দলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ফ্রেন্ডলিতে খেলেন। জাফরের দক্ষতা মনে ধরেছিল বেঙ্গালুরু এফসি–‌র কর্তাদের। তাতেই ২০১৬–‌‌২০১৮ মরশুম বেঙ্গালুরু ফুটবল অ্যাকাডেমিতে নিজেকে আরও উন্নত করার সুযোগ পান।
অনূর্ধ্ব ১৯ দলের হয়ে জাপানের নামী ক্লাবের বিরুদ্ধে বেঙ্গালুরু দলের প্রতিনিধিত্বও করেন। ওখানে থাকতে থাকতেই যোগাযোগ হয় কলকাতার ফুটবলপ্রেমী মানুষ, ছোটদের নিয়ে কাজ করা সুবল দাসের সঙ্গে। তাঁর মারফত কলকাতায় ফিরেছিলেন জাফর পিয়ারলেসে খেলার জন্য। তবে সিনিয়র গোলকিপার থাকায় কলকাতা লিগে সেভাবে খেলার সুযোগ মেলেনি। তাই সুযোগ খুঁজছিলেন কলকাতার বাইরে আই লিগ বা আইএসএলে ক্লাবে যাওয়ার। তখনই চার্চিলের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন সুবল।
চার্চিলের গোলকিপার কোচ নর্বাট ভাল একজন নবীন গোলকিপারের খোঁজে ছিলেন। গোয়ায় থাকতে জাফরের দক্ষতার পরিচয় তিনি পেয়েছিলেন বলে তাঁকে নিতে দ্বিধা করেননি। গোয়া প্রো লিগে নিয়মিত খেলছেন জাফর। আই লিগে পাঞ্জাব এফসি–‌র বিরুদ্ধে অভিষেকও ঘটে গিয়েছে। এখন নিয়মিত খেলাই মূল লক্ষ্য তাঁর। চার্চিলে এসেছেন নতুন কোচ। তিনিই ঠিক করবেন জাফরের মোহনবাগানের বিরুদ্ধে খেলা।
তবে চ্যালেঞ্জটা নিচ্ছেন প্যারিস সাঁ জাঁ গোলকিপার কেলর নাভাস ও ভারতীয় গোলকিপার অরিন্দম ভট্টাচার্যের ভক্ত  জাফর। বলেন, ‘আমার প্রথম দলে খেলা বা না ‌খেলা নির্ভর করছে কোচের ওপর। তবে আমি মানসিকভাবে সেরা দিতে তৈরি। জানি মাঠ ভর্তি মোহনবাগানের সমর্থক থাকবে। তাতেই তো ভাল খেলার জেদটা আরও বেশি।’‌ চার্চিলে ভাল খেলে কলকাতার দলে ফেরার ইচ্ছা রয়েছে জাফরের। কোথায় খেলতে চান? জাফরের জবাব, ‘‌আমি বরাবর মোহনবাগান ভক্ত। সবুজ–‌মেরুন জার্সি গায়ে চাপানোর সুযোগ পেলে দারুণ লাগবে। তবে একদিন দেশের হয়ে খেলতে চাই। দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারলে গর্বিত বোধ করব।‌’‌

(ফাইল ছবি)

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top