আজকালের প্রতিবেদন: সুভাষ ভৌমিককে ক্লাবের টিডি হিসেবে কোচ খালিদের মাথার ওপর বসিয়ে দেওয়ার কথা সোমবার ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের শীর্ষ কর্তারা ঘোষণা করেছিলেন। রাতে কর্তা দেবব্রত সরকারের সঙ্গে কথা বলার পর সুভাষ জানান, তিনি যে কোনও ভূমিকাতেই ক্লাবের সঙ্গে জড়াতে রাজি। চিন্তা ছিল অন্য জায়গায়। যে খালিদ পাশে মনোরঞ্জনকে নিয়ে কাজ করতে পারেননি মন খুলে, তিনি সুভাষকে মাথার ওপর মেনে নেবেন?‌ কোচ হিসেবে সুপার কাপে খালিদ থাকবেন, না দায়িত্ব ছেড়ে মুম্বই পাড়ি দেবেন, এমন একটা জল্পনা ছিল। না, দায়িত্ব ছাড়েননি খালিদ। প্রথমত সাংবাদিক সম্মেলনের আগেই সুভাষ ও খালিদের সঙ্গে বসেন কর্তা দেবব্রত সরকার। সেখানেই খালিদকে বার্তা দেওয়া হয়, তাঁর ভূমিকা ঠুঁটো জগন্নাথের হবে না সুভাষ থাকলে। পরে মাস্টারস্ট্রোক দেন সুভাষ নিজেই। খালিদকে পাশে বসিয়ে দুরন্ত মেজাজে থাকা আসিয়ান জয়ী কোচ সুভাষ বলেন, ‘‌চিফ কোচ খালিদ। আমি ওর সহকারী মাত্র। ৫০-‌৫০ নয়, খালিদের ৮০, আমার ভূমিকা ২০। কী ভূমিকায় থাকলাম বড় কথা নয়। আমার বি লাইসেন্স আছে। তাই কোনও সমস্যা নেই। ইস্টবেঙ্গল আমার প্রাণের ক্লাব। দলের সাফল্যের জন্য যে কোনওভাবে সাহায্য করতে পারলে খুশি হব। তার জন্য কোনও ইগো নেই। আমরা দুজনে মিলে ক্লাবের ভালর জন্য কাজ করব।’‌ একইসঙ্গে সুভাষ জানালেন, তিনি মাঠে নেমে হাতে কলমে কাজ করবেন, মাঠের ধারে বসে নয়। এতদিন খালিদের চোখে মুখে সবসময়ই একটা টেনশনের ছাপ থাকত। মনে হত প্রচন্ড চাপে রয়েছেন। সুভাষের বক্তব্য শোনার পর পাশে বসা খালিদকে অনেক নিশ্চিন্ত লেগেছে। ইস্টবেঙ্গলে ফিরলেন ২০০৯-‌১০ মরশুমের পর। কিন্তু সুভাষকে দেখে বা তাঁর কথা শুনে মনে হয়নি, তিনি এতদিন ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। দায়িত্ব নিলেন এদিন, অথচ প্রতিটি কথায় বুঝিয়ে দিলেন ইস্টবেঙ্গলের বর্তমান দল ও পারফরমেন্স সম্পর্কে তিনি যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। সুভাষ বলেন, ‘‌ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে ফুটবলার ও কোচ হিসেবে তাঁর অনেক প্রাপ্তি। সেই ক্লাবের কোনও কাজে লাগাটা সম্মানের। গত বছর ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের দেওয়া সংবর্ধনা পেয়ে মনে হয়েছিল আমার ফুটবল জীবনের একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ হল। আজ মনে হচ্ছে ক্লাবের কোচ হিসেবে জড়িয়ে বৃত্তটা সত্যি সত্যি সম্পূ্র্ণ। খালিদ ভাল কোচ। ও আমার থেকে শিক্ষিত। আইজলকে চ্যাম্পিয়ন করেছে। আমার থেকে জুনিয়র হলেও, খালিদ জানত না কলকাতার দলে কাজ করার চাপটা কী অপরীসিম। এখানে সমর্থকদের চাহিদা আকাশছোঁয়া। আমি চার্চিলকে চ্যাম্পিয়ন করার বছরে এই চাপ অনুভব করিনি। সেখানে ইস্টবেঙ্গলে বর্তমান পরিস্থিতি অনেক কঠিন। দলে সাফল্য আনতে আমাদের প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে। একথায় লড়ে যেতে হবে। আমার কাছে জীবনটাই চ্যালেঞ্জিং। ওপেন হার্ট সার্জারির ১৩ দিন বাদে ইস্টবেঙ্গল মাঠে এর আগে প্র‌্যাকটিসে নেমে ছিলাম জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। কী হত, বড় জোর মারা যেতাম। অতীতে কী হয়েছে মাথায় রাখছি না। এটাই আমার জীবনের কঠিনতম চ্যালেঞ্জ।’‌ মাত্র দুই থেকে চার ম্যাচের জন্য দায়িত্ব নিলেন কীভেবে?‌ সুভাষের উত্তর, ‘‌আমি এরকম কিছু মনে করছি না। সময়ই বলবে দায়িত্ব কতদিনের। আপাতত সামনে যেটা কাজ সুপার কাপের খেলা সেটা নিয়েই ভাবছি আমরা। গতকাল রাত থেকে দায়িত্ব নেওয়ার পর ভাবনা শুরু করেছি দলটা নিয়ে। খোঁজ খবর করছি। খালিদের সঙ্গে আলোচনা করব। এতদিন দলটা ওই দেখাশোনা করেছে। খালিদের কোচিং সব ম্যাচ হয়ত ভাল খেলেনি, আবার অনেক ম্যাচ যথেষ্ট ভাল খেলেছে। শুধু কোচকেই সবকিছুর জন্য দায়ি করলে হবে না। কাটাছেঁড়া করা জরুরি, কেন গত ১৫ বছরে অনেক নামী দেশি বিদেশি কোচের আন্ডারে আই লিগ এল না ইস্টবেঙ্গলে?‌ সেটা নিয়ে পরে ভাবা যাবে। আপাতত সুপার কাপের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ইন্ডিয়ান অ্যারোজ ও মুম্বই সিটি এফ সির খেলার ভিডিও দেখে নিজেদের কৌশল ঠিক করার পথে হাঁটব।’‌ মনোরঞ্জনের সঙ্গে কথা বলবেন ক্লাবে আসতে?‌ সুভাষ বলেন,‘‌নিশ্চয়ই। মনোরঞ্জন আমার অত্যন্ত প্রিয়। ভারতীয় দলে ওকে অধিনায়ক করতে লড়ে গিয়েছিলাম। ওকে বলব ক্লাবে আসতে, কাজকর্মে জড়াতে।’‌ সুভাষ এদিন আরও বলেন, দলের সাফল্যের পিছনে একজন লিডারের ভূমিকা থাকে। সেটা তৈরি করে নিতে হয়। এবারও করবেন। খালিদের মতে, দলের ভালর জন্য সুভাষের মতো অভিজ্ঞ কোচের সঙ্গে কাজ করতে কোনও অসুবিধা নেই। এমনকি এতদিন কাজ করতে যে সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হয়েছেন, তাও সুভাষকে জানাবেন। ‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top