আজকালের প্রতিবেদন: তাঁর জীবনকাহিনি নিয়ে বোধহয় সিনেমার চিত্রনাট্য লেখা হয়ে যাবে! যে চিত্রনাট্যে চড়াই–উতরাই, দারিদ্রতা, যন্ত্রণা, লক্ষ্যে স্থির থাকা থেকে লক্ষ্যপূরণ—সবই মজুত রয়েছে।

তিনি যখন মা–কে হারান তঁার বয়স তখন এগারো বছর। বাবা মারা যাওয়ার সময় একুশ। ছোটবেলা থেকেই ‘লড়াই করে বঁাচতে চাই’ এই মন্ত্রে দীক্ষিত জাতীয় হকি দলের গোলরক্ষক কিষান পাঠক। লড়াই–সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে যেতে তঁার এমনই হয়েছে, এখন লড়াইটাকে বেশ উপভোগ করেন। ‘ছোটবেলা থেকেই লড়াই জারি। তাই এটাকে এখন উপভোগ করি। তা না করলে জীবনে এগিয়ে যেতে পারব না। নিজেকে উদ্বুব্ধ করতে পারব না। লড়াইয়ের কথা বেশি ভাবলে নিজের কাজই করতে পারব না’, অনর্গল কিষান।

একটা সময় হকি কিটস কেনার পয়সা ছিল না। দিদি যোগিতা বালি সাহায্য করেন। তিনিও প্রাক্তন হকি খেলোয়াড় ছিলেন। দারিদ্রতার সঙ্গে ‘অধিনায়কত্ব’ করেও হাল ছাড়েননি। হার–না–মানা মানসিকতার জোরে জাতীয় দলে খেলার স্বপ্নপূরণ কিষানের। এই উত্থান যেন রূপকথা।

জাতীয় দলের প্রথম একাদশে নিয়মিত নন। তবে সুযোগ পেলেই নির্ভরতা দিয়েছেন দলকে। প্রথম দলে জায়গা নিশ্চিত করার চেয়েও কিষানের প্রধান লক্ষ্য টোকিও অলিম্পিকে সোনা জয়। ‘কোচকে (গ্রাহাম রিড, ভারতের কোচ) ধন্যবাদ। আমাকে আগের চেয়ে অনেক সুযোগ দিয়েছেন। প্রথম দলে খেলতে পারলে নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়ে। আমাদের দলে আমি ছাড়াও শ্রীজেশ, সুরেশ রয়েছে। যে সেরাটা দেবে, কোচ তাকেই খেলাবে। নিজের প্রথম দলে ঢোকার থেকেও আমি চাই অলিম্পিকে সোনা জিতুক দল’, বলছিলেন বছর বাইশের জলন্ধরের যুবক।

অবসর সময়ে ফুটবল খেলতে দারুণ পছন্দ। তবে গোলকিপার নয়। এছাড়াও পাবজি প্রেমিক। সে প্রসঙ্গ তুলতেই বেটন চ্যাম্পিয়ন ইন্ডিয়ান অয়েলের গোলকিপারের মুখে মুচকি হাসি। হাতে অ্যাপলের ঘড়ি। ‘অ্যাডিডাস’ লেখা লাল টি–শার্ট পরিহিত ফর্সা যুবক বলেন, ‘ফুটবল খেললে মন ভাল হয়ে যায়। সুযোগ পেলেই নেমে পড়ি।’

ইন্ডিয়ান অয়েলে চাকরি। নিজের পায়ে দঁাড়িয়েছেন। জাতীয় দলে খেলছেন। সবই হয়েছে, কিন্তু কিষানের আক্ষেপটা যে কিছুতেই যায় না। ‘সবই হল। আমার বাবা–মা দেখে যেতে পারলেন না। আজ ওরা থাকলে খুব খুশি হতেন। বাবা মারা যাওয়ার পরই জাতীয় দলের ডাক পেলাম। আপশোসটা সারাজীবন থেকে যাবে। আমার দিদি আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন। হকি কিটস কিনে দিয়েছে’, গলা বুজে আসে কিষানের। দীর্ঘনিঃশ্বাস নিয়ে জুড়ে দেন, ‘এখন টাকা হয়েছে ঠিকই। কিন্তু, সবসময় পা মাটিতে রেখে চলার চেষ্টা করি। পরিবারের ব্যাকগ্রাউন্ডটা সবসময় মাথায় রাখি। কী জায়গা থেকে উঠে এসেছি।’ উঠতি ক্রীড়াবিদের কাছে অনাথ কিষানের জীবনসংগ্রাম নিঃসন্দেহে প্রেরণা।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top