মুনাল চট্টোপাধ্যায়
ফেডারেশনকে কোয়েস চেয়ারম্যান অজিত আইজ্যাকের পাঠানো চিঠিতে ইস্টবেঙ্গলের সমস্যা আরও বাড়ল। ফেডারেশন সূত্রে খবর, আইজ্যাক চিঠিতে জানিয়েছেন, এখনও ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে সরকারিভাবে তাঁদের সম্পর্ক ছিন্ন হয়নি। ব্যাপারটা আলোচনা স্তরে রয়েছে। ফলে এখন অন্য কে কী বলল, বা জানাল, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। অর্থাৎ যতক্ষণ না কোয়েস সমঝোতায় গিয়ে নো অবজেকশন দিচ্ছে, ততক্ষণ খেলা তো দূরের কথা, ইস্টবেঙ্গলের নতুন পরিচয় দিয়ে এএফসি ক্লাব লাইসেন্সিংয়ের শর্ত পূরণেরও সুযোগ নেই। পুরনো পরিচয়ে অবশ্য কোনও সমস্যা নেই। কারণ ফেডারেশনের কাছে এই নামেই নথিভুক্ত ফুটবল দল। স্পোর্টিং রাইটসও কোয়েসের হাতে। 
ফেডারেশন অনেক আগেই কোয়েস ইস্টবেঙ্গলে থাকা বোর্ডের কর্তাদের কাছে চিঠি দিয়ে ক্লাবের বর্তমান স্ট্যাটাস জানতে চেয়েছিল। ক্লাব লাইসেন্সিংয়ের আগে এটা পরিষ্কার করা জরুরি। এটা জানালে ফেডারেশন নতুন পরিচয় পাওয়া ক্লাব বা কোম্পানিকে জানিয়ে দেবে, ফুটবলারদের থেকে পেমেন্ট বা অন্য কোনও ব্যাপারে অভিযোগ এলে তার দায় এআইএফএফ বা এএফসি নেবে না। দায় বর্তাবে নতুন ক্লাব বা কোম্পানির ওপর। কিংফিশারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সময় ইস্টবেঙ্গল এগুলোই মেনেছিল। কিন্তু এবার কোয়েসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে দাবি করলেও কোনও সাপোর্টিং ডকুমেন্টস জমা করতে পারেননি লাল–‌হলুদ কর্তারা। 
পাঁচদিন আগে ইস্টবেঙ্গলের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার ফেডারেশনকে পাঠানো চিঠিতে লেখেন, ‘কোয়েস ইস্টবেঙ্গল বোর্ডের প্রতিনিধি সুব্রত নাগ ২০১৯–‌এ জানিয়েছিলেন, তাঁরা ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করছেন ৩১ মে, ২০২০। মিউচুয়াল এগ্রিমেন্টের মাধ্যমে পার্টিশন সম্পন্ন হবে বলে উল্লেখ করেছিলেন। এছাড়াও বিভিন্ন সময় কোয়েসের বক্তব্যে উঠে এসেছে, তারা এবছর ৩১ মে–‌র পর আর ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত থাকবে না। এটাই তো যথেষ্ট। ইস্টবেঙ্গলকে সরাসরি ক্লাব লাইসেন্সিংয়ের শর্ত পূরণের সুযোগ দিতে বাড়তি প্রমাণপত্রের আর কী প্রয়োজন ফেডারেশনের?‌’ 
শুক্রবার এর উত্তর পাঠায় ফেডারেশন। কোয়েস ইস্টবেঙ্গল বোর্ডে থাকা প্রতিনিধিদের কাছে প্রতিলিপিও পাঠানো হয়। লেখা হয়, ‘ফেডারেশনের এখানে কোনও ভূমিকা নেই। কোয়েসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত ইস্টবেঙ্গলের আবেদনে সাড়া দেওয়া সম্ভব নয়। লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া ১০ জুলাই শুরু হবে। ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে ফেডারেশনের কাছে লাইসেন্সিংয়ের ফর্ম ফেরত পাঠানো জরুরি। তার মধ্যে ইস্টবেঙ্গল মিউচুয়াল টার্মিনেশনের ও নতুন পরিচয়ের কাগজপত্র দিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করলে ভাল, নইলে আগের স্ট্যাটাস অনুযায়ী নিয়মমফিক এই ফর্ম পাঠাতে হবে ফেডারেশনে নথিভুক্ত কোয়েস ইস্টবেঙ্গলের কাছে।’ 
এই চিঠি যাওয়ার অল্পসময়ের মধ্যে ফেডারেশনকে লেখেন কোয়েস চেয়ারম্যান অজিত আইজ্যাক। তার প্রতিলিপিও তিনি ইস্টবেঙ্গলকে ও বোর্ডে থাকা অন্য প্রতিনিধিদেরও পাঠান। সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে, সুতরাং ফেডারেশন এখন থেকে ক্লাবকেই সববিষয়ে মান্যতা ও লাইসেন্সিংয়ের অনুমতি দিক, ইস্টবেঙ্গলের এই দাবিকে নস্যাৎ করে দিয়ে অজিত আইজ্যাকের লেখা চিঠিতে জট আরও পাকাল। সেই জট ছাড়াতে কোয়েসের নরম মনোভাবের মুখাপেক্ষী হয়েই থাকতে হবে ইস্টবেঙ্গলকে। ‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top